বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জমি দখল নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত ঘটনায় নিজেদের জমিকে নিষ্কন্টক দাবি করে সাংবাদিকদের কাছে ‘প্রকৃত সত্য’ তুলে ধরেছেন জমির মালিক ডা. আমিনুল ইসলাম গং।
রোববার (২১ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন ডা. আমিনুল ইসলাম। সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভূয়া মালিক আসমা। আসমা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা জমির অপর অংশের মালিক মজিবুর রহমান ও ডা. নজরুল ইসলামের সাথে বিরোধে জড়ায়। এ বিরোধের অংশ হিসেবে ডা. আমিনুল ইসলাম গংদের জমির উপরও হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জমির প্রকৃত মালিক তিনিসহ ৮জন। এ জমিতে বিধবা পরিচয় দেয়া আসমার কোন স্বত্ত্ব নেই, ছিলো না। তাঁর পিতাই আদালতে হলফনামার মাধ্যমে এ সত্য স্বীকার করে জবানবন্ধি দিয়েছেন। ভুলবশত: আরএস রেকর্ডে যে নাম এসেছিল আদালতের রায়েই তা মীমাংসিত হয়। সুতরাং আদালতের রায়ের পরেও আসমা তার মেয়ে জামাতাকে দিয়ে আর্থিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আসমা একজন লেডিসন্ত্রাসী ও তার মেয়ে জামাতা আলোচিত সাত খুনে দন্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের এক সময়ের সহযোগী।
ডা. আমিনুল ইসলাম ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-ডা. শফিকুল ইসলাম, এড. আওলাদ হোসেন, এড. আলী হোসেন ও এড. নুরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডা. আমিনুল ইসলাম। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তার নিযুক্ত আইনজীবী এড. নুরুল ইসলাম।
সিদ্ধিরগঞ্জের জমি নিয়ে আলোচিত ওই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উঠে আসেনি উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজাস্থিত সি, এস ও এস, এ- ১৭৯, আর, এস- ৩১৫ নং দাগে ১১.৪০ শতাংশ এবং সি, এস ও এস, এ- ১৮২, আর, এস- ৩১৬ নং দাগের ৪৬ শতাংশ একুনে ৫৭.৪০ শতাংশ জমি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলোতে প্রকৃত সত্য উঠে আসেনি। একপক্ষের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করেই সংবাদগুলো প্রকাশিত হয়েছে, যা দু:খজনক।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ওই মৌজার উল্লেখিত ভূমির ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ জমি তিনি ও তার অন্যান্য অংশীদারগণ ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর ১২৩৫০ নং দলিলে সাফ কবলা মূলে ক্রয় করেন। পরে নিজ নামে নামজারী করে চারিদিকে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে স্থাপনা ও একটি গভীর নলকূপ বসান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আছমা বেগম, মেয়ের জামাতা ইউসুফ, আসমার দ্বিতীয় স্বামী শাহ আলম ও অন্যরা গত ১৫ মে তাদের জমিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে তিনি পিটিশন মোকদ্দমা দায়ের করেন। আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে নালিশা ভূমিতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আদেশ প্রদান করেন।
তিনি বলেন, ওই মোকদ্দমার পরে গত ১৮ মে সন্ত্রাসীরা তাদের দলীয় সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে ভূমিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে আমাদের নার্সারীর গাছপালা ক্ষতি সাধন করে এবং সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়। বিষয়টি অবগত করে গত ২০মে পুলিশ সুপার বরাবর একটি আবেদন করি।
