বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
এবার মে দিবসের সমাবেশ করতে গিয়ে পুলিশের অনুমতির ‘গোলকধাঁধায়’ পড়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে আবেদন করে শ্রমিক দল। বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ওইদিন আবেদন করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দুই একদিন পরে খোঁজ নেয়ার জন্য বলা হয়।
তবে সেদিনই ১ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো সভা সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না সেটা পুলিশ বিএনপি নেতাদের জানিয়ে দেয়।পরে ওইসময়ই অনুমতি পেলে ২ অথবা ৩ মে একই স্থানে সমাবেশ করার কথা বলে আবেদন করে শ্রমিক দল।অনুমতির সবশেষ অবস্থা জানতে শনিবার সকালে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে যান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম।
সেখানে তারা কথা বলেন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদারের সঙ্গে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। তাদের জানানো হয়েছে, ৫ মের আগে রাজধানীতে কোনো সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না।
বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি দেয়া নিয়ে পুরোপুরি তালবাহানা শুরু করেছে পুলিশ।আজ আমাদের বলা হয়েছে ৫ মের পর সমাবেশ করার জন্য আবেদন করলে তারা (পুলিশ) ভেবে দেখবে।’
পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাতে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কথা বলে সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তখন আপনাদের জানাতে পারবো।’শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম বলেন আমরা সমাবেশ করার জন্য প্রস্তুত আছি। এখন চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের পর বোঝা যাবে নতুন কর্মসূচি কী হবে।’কয়েক ঘণ্টা আগে অনুমতি দিলেও সমাবেশের সব প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব। এর আগে অনেকবার এমনটা হয়েছে। তাই যদি সরকার অনুমতি দেয় তাহলে সমাবেশ করতে কোনো সমস্যা হবে না। বিকালে বৈঠক ডেকেছি সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।’নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, মে দিবসে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশের অনুমতি নিয়ে সরকার গড়িমসি করছে।আওয়ামী লীগে জোটের শরিকেরা যখন খুশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনগুলোকে সেখানে সমাবেশের অনুমতি দিতে টালবাহানা করা হয়।
শ্রমিক দিবসটি পালনের জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সব প্রস্তুতি নিয়েছে। এতে সহযোগিতা করছে বিএনপি। ১ মে সম্ভব না হলে ২ কিংবা ৩ মে যেকোনো একদিন সমাবেশের অনুমতি দেয়ার দাবি জানান রিজভী।
