বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আগামী ৩ ও ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ‘বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম তীর্থ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্রহ্মপুত্র নদে লাঙ্গলবন্দ মহাষ্টমীর স্নান। সেই লক্ষ্যে ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু নেতৃবৃন্দদের সাথে মত বিনিময় এবং প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
¯œান উৎসব উপলক্ষে বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের উভয় পারের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পুণ্যার্থীদের সমাগম ঘটবে। নদের পশ্চিম পাড় লাঙ্গলবন্দ এলাকায় পূণ্যার্থীর চাপ কমাতে সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত পূর্ব পাড়েও পূণ্যার্থীদের ¯œান করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, গত বছরের মত এ বছরও সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ভাবে লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপনের লক্ষ্যে গত বছরে গৃহিত উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন। পাশাপাশি উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব, পুলিশ, আনসার, ও সেচ্ছাসেবী মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হিন্দু নেতৃবৃন্দ সহযোগীতা কামনা করেছেন।
জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
মত বিনিময় সভায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে গত বছরের কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা বলেন। সেই সাথে আগামী সোমবার সরেজমিনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং হিন্দু নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়ে সরেজমিনে লাঙ্গলবন্দ ¯œান এলাকা ঘুরে দেখান প্রস্তাব রাখেন। সরেজমিনে দেখার পর পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আকারে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া কথা বলেন। ওই প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে ¯œান উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। এছাড়াও হিন্দু সংগঠন গুলো উৎসবের দিন পর্যাপ্ত সেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি সকলের প্রতি আহবান রাখেন যাতে করে সেখানে আসা পূণ্যার্থীরা কোন প্রকার গুজবে কান না দেন সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া কথা বলেন। নিজেদের মধ্যে যদি কোন প্রকার অর্ন্ত:কোন্দল থাকে তাহলে তা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়াও তিনি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য ক্যাম্প করার পরামর্শ দেন।
জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক তার বক্তব্যে, অত্র এলাকায় সিসি টিভি ক্যামেরার পাশাপাশি পুরো এলাকায় সাউন্ড কন্ট্রোলের করার কথা বলেন। যাতে করে কন্ট্রোল রুম থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলতে পারেন। এছাড়াও প্রয়োজনে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার বৃদ্ধি করার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে তিনি ¯œান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সহযোগীতা কামনা করেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিব, বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম, হিন্দু বৌদ্ধ খিস্ট্রান ঐক্যজোট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি কমান্ডার গোপি নাথ দাস, ¯œান উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সরোজ কুমার সাহা, শংকর সাহা, বাসুদেব চক্রবর্তী, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, মহানগর শাখার সভাপতি দিপক সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিখন, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত ম-ল প্রমুখ।
