নাফিসা আহমেদ সোনালী, বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সাবুদ কালাম বয়োবৃদ্ধ এক কর্মজীবির নাম। বয়স প্রায় ১০০ ছুঁই ছুঁই। এই বয়সে অনেকেই চলতে ফিরতে পারেননা। অথচ কর্মস্থলে এখনো সদা সক্রিয় প্রবীণ এ কমর্চারী। সাবুদ কালাম ২পুত্র ও ৪কণ্যা সন্তানের জনক হলেও যুদ্ধকালীন সময়ে তার বড় ছেলে আবদুস সালাম হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হয়। বর্তমানে সাবুদ কালাম নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবেদ হোসেনের ব্যবসায়ীক কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছেন। সাবুদ কালামের বড় ভাই আবুল কালাম ও কফিলউদ্দিনও এক সময় আবেদ হোসেনের পিতা মরহুম ইউনুছ বেপারীর চিড়ার মিলের মালামাল নৌ পথে সরবরাহ করতেন। ভাইদের বদৌলতেই কালাম এখনো এই পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছেন। আবেদ হোসেনের অফিসে কাজ করে নিজেকে গর্বিত মনে করেন বয়োবৃদ্ধ এ কর্মচারী। আবেদ হোসেনও সাবুদ কালামকে বড় ভাইয়ের মতোর শ্রদ্ধা করেন। তার ইচ্ছে জীবনের শেষ সময়টুকু যেন এভাবেই পার করতে পারেন। অবিশ^াস্য হলেও সত্য সাবুদ কালাম বাংলাদেশের এক সময়কার শীর্ষ ধনী আমানউল্লাহ আমানের আপন মামাতো ভাই। জীবদ্দশায় আমানউল্লাহ আমান তার খোঁজও রাখেননি। আর মামাতো ভাইয়ের ছেলেরাতো তাকে চিনেনা বললেই চলে। তাই বলে জীবন-জীবিকায় এখনো হাল ছাড়েননি তিনি। ইতোমধ্যে ৫সন্তানকেই বিয়েথা দিয়েছেন স্বাচ্ছ্যন্দে। সাবুদ কালাম কোন প্রকার লাঠি ভর না করেই দিব্যি চলতে ফিরতে পারেন। চোখেও ভাল দেখেন শুধুমাত্র কানে একটু কম শোনেন। জোরে বলা ছাড়াও ইশারার ভাষায়ও কথা বলেন তিনি। আওয়ামীলীগ নেতা আবেদ হোসেনের অফিসে যেতেই বড় বড় চা’য়ের কাপ নিয়ে দাড়িয়ে থেকে মুচকি হাসি দিয়ে বলেন ভাল আছেন। এতটা বয়স স্বত্ত্বেও বৃদ্ধের মুখ মন্ডলে বয়সের ভাজটা তেমন একটা বুঝা যায়না। এই বয়সের মানুষ চা নিয়ে দৌড়াদৌড়িতো দূরের কথা রাস্তা-ঘাটে চলতে ফিরতে থর থর করে কাঁপতেও দেখা যায় অথচ সৃষ্টিকর্তার কি অসীম দয়া এই বয়সেও তাকে দৃঢ় মনোবল দিয়েছেন। বয়োবৃদ্ধ সাবুদ কালামকে এই বয়সে কাজ করা হয় কেন জানাতে চাইলে তিনি বলেন,আমি এইভাবে দৌড়াদৌড়ির মধ্যে আছি বলেই এখনো ভাল আছি। এই সাহেব(আবেদ হোসেন)যদি আমাকে এইটুকু সহযোগিতা না করতেন তাহলে সংসারও চালাতে পারতামনা আর শারীরিকভাবে সুস্থ্য হয়ে পড়তাম। আমি তার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সহি সালামতে রাখেন।
