বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের লন্ডন মার্কেট এলাকার ডিএনডি‘র পানি নিষ্কাশন খালের উপর যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সেতুটি মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রধান সড়কের এই সেতুটির নেই কোন রেলিং। দু‘ দিক খোলা রয়েছে। জরাজীণ এবং অনেক পুরানো সেতুটি। এই সেতু থেকে ডিএনডি পানি নিস্কাশন খালের পানিতে পড়ে গিয়ে একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী যানবাহন ও এই সেতুতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে এলাকাবাসীরা জানায়। যে কোন মূহূর্তে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করছে সানারপাড়বাসী ফলে ঘটতে পারে আরো বড় ধরণের দুর্ঘটনা।
জানা যায়, সানারপাড়ের লন্ডন মার্কেট এলাকায় ডিএনডি খালের উপর প্রায় অর্শশতাব্দীর আগের নির্মিত মাত্র ১০/১১ ফুট চওড়া করে নির্মাণ করা হয় পাকা সেতু।অতিরিক্ত লোড বহন করার পরিকল্পনা মোতাবেক সেতুটি নির্র্মাণ করা হয়নি বলে জানায় এলাকাবাসী। তখন সানারপাড় এলাকায় আদি কয়েকটি বসত বাড়ি ছাড়া আর কিছুৃই ছিল না। এরশাদের আমলে শিমরাইল থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি সম্প্রাসরণ করার পর থেকে সানারপাড় এলাকায় ঘরবাড়ি করা শুরু করে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন। কালের আবর্তে গণবসতি গড়ে উঠে সানারপাড় এলাকায়। বর্তমানে সানারপাড় এলাকায় লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ সানারপাড়ের লন্ডন মার্কেট এলাকার পুরানো এই সেতুটি জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপের কথা চিন্তে করে সেতুটি আজো সম্প্রাসরণ করা হয়নি। সেতৃটি অতি পুরানো এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রিজটি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ডিএনডি‘র অভ্যন্তরের বিভিন্ন মিলকারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশ্রিত পানি, নর্দমা, ময়লা-আর্বজনা । খবর নিয়ে জানায়, সানারপাড় এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল- কলেজ, মাদ্রসা ও কয়েকটি গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন কারখানা এবং অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। সানারপাড় এলাকায় তৈরি হয়েছে বহুতল বিশিষ্ট অসংখ্য পাকা ইমারত ভবন। এখানকার লোকজনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন কয়েক লাখ লোক এবং অতিরিক্ত লোডবাহী ট্রাক এই সেতুটি দিয়ে চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়াও এ সেতুটি দিয়ে ডেমরার সারুলিয়া বক্সনগর, টেংরা, নিমাইকাশারী, বাঘমারা, রসুলবাগ, পূর্ব ডগাইর, পাড়া ডগাইর, বড় ভাঙ্গা, মনু মিয়া মার্কেট, তুষারধারা, সানারপাড় লন্ডন মার্কেট ও পশ্চিম সানারপাড়, আদর্শনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ও বিভিন্ন গার্মেন্ট ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের লোডবাহী ট্রাক চলাচল করছেভ প্রতিনিয়ত। স্থানীয় বাসিন্দারা বিগত দিনে পুরাতন সেতুটি ভেঙ্গে নতুন একটি সেতু তৈরি করার জন্য স্থানীয় সাংসদ এলজিইডি ও সাবেক সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভাসহ বর্তমান সিটিকরপোরেশসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন করা হলেও বাস্তবে কোন কাজই হয়নি। সানারপাড়ের বাসিন্দারা জানায় রেলিং না থাকায় সেতু থেকে প্রায়ই রিক্সা ও পথচারীরা পানিতে পড়ছে। রাজিব হোসেন নামে এক যুবক সেতু থেকে ডিএনডি‘র নিষ্কাশন খালের পানিতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর বরণ করেন। তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রাজিবের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর সমগ্র
এ ব্যাপারে নারাযণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল জানায় এলাকাবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে ওই সেতুটি ভেঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।
