বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ছাত্র সমাবেশ পরবর্তী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, অর্থ সম্পাদক মুন্নি সর্দার, পলাশ চন্দ্র রায় প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারী এ দেশের ছাত্র যুব সমাজের উন্নত রুচি, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জাগরণ ঘটিয়ে দেশে বিদ্যমান আর্থ সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে শোষনহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে। অন্যদিকে এ সংগঠন তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সর্বজনীন বিজ্ঞান ভিত্তিক একই ধারার বৈষম্যহীন সেক্যুলার গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবীতে লড়াই করছে। কারণ শিক্ষাকে করা হচ্ছে পণ্য হিসেবে, যার টাকা আছে সে শিক্ষা পাবে আর যার টাকা নাই সে শিক্ষা পাবে না। যার ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি ব্যঙের ছাতার মত অজ¯্র বেসরকারী স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। ভুলে ভরা, লৈঙ্গিক ও সাম্প্রদায়িক পাঠ্যপুস্তক স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের তুলে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বই, ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্য প্রকাশ্যেই চলছে। বেসরকারী এবং বাণিজ্যিক ধারাই এখন শিক্ষার প্রধান ধারা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্থার চিত্র মানুষকে চূড়ান্তভাবে হতাশ করছে, দেশের অভ্যন্তরে সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি হস্তক্ষেপ করছে। প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ দেদারসে দখল চলছে। যার ফল হিসেবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ‘সুন্দরবন’ আজ হুমকির মুখে। সকল জনমত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আশংকা ও গণআন্দোলন উপেক্ষা করে সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ২০০ টন কয়লা পুড়িয়ে ৭৯ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। যার ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩৪ কোটি গাছ কেটে ফেলার সমান। এতো পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পরও সরকার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে মরিয়া। আমাদের দেশের মুষ্টিমেয় মানুষ আর ভারতের মুনাফার স্বার্থে এই ভয়াবহ প্রকৃতি বিনাসী অপতৎপরতা চলছে। অনেকভাবে অনেক স্থানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস হলে তা আর সৃষ্টি করা যাবে না।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শিক্ষাসহ জনগনের সকল অধিকার খর্ব ও ভারতের স্বার্থে প্রাণ প্রকৃতি সুন্দরবন ধ্বংসের যে আয়োজন করছে এই পুঁজিবাদী শাসকেরা, এই বৈষম্যমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ভাংতে হলে আজ ছাত্র-তরুন-যুব সমাজকে জাগতে হবে।

