বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত বারী-শাহিন প্যানেল পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টায় শহরের বাধন কমিউনিটি সেন্টারে এই পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী এড. তৈমর আলম খন্দকার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড খন্দকার মাহাবুব হোসেন, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, সম্মানীত অতিথি হলেন, নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এড আবুল কালাম,জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজজামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী এড শাখাওয়াত হোসেন খান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব এড নবী হোসেন , সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড জাকির হোসেন, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড সরকার হুমায়ুন কবির,
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এড মাহাবুব উদ্দিন খোকন বলেন , এবারের নির্বাচন একটু ভিন্ন । অতীতে এতো উৎসব ছিল না আইনজীবী সমিতির নির্বাচন । এই নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সকল নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে । যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দেই তাহলে অবশ্যই জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ পেনেল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে ।
তিনি বলেন, দেশে কোন গনতন্ত্র নেই । তাই দেশের গনতন্ত্র কে ফিরিয়ে আনতে এই পেনেল কে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে । এই পেনেল কে ভোট দেওয়া মানে গনতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেওয়া এবং শেখ হাসিনার সরকার কে প্রতাখান করা । দেশ এখন আর দেশ নেই দুর্নীতিতে ভরে গেছে ।
তিনি বলেন, ফকরউদ্দিন ও মইন উদ্দিন ছিল তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে । এই সরকার ও ঠিক একই ভাবে পালিয়ে যাবে । এদেশের জনগণ বিভিন্ন কারনে এই সরকার কে ভয় পায় । কিন্তু আইনজীবীরা কাউকে ভয় পায় না । তারা স্বাধীন ভাবে কথা বলে ।
তিনি বলেন, রেব গত পাঁচ বছরে বহু মানুষ কে হত্যা করেছে । বহু আলোচিত সাত খুনের মামলায় রেব এখন কাঠগড়ায় । সাত খুনের মামলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ পেনেল ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম ও মিছিল করেছেন । আমরা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সর্মথ করে ছিলাম । তাই নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা সারা বাংলাদেশের সবার কাছে আদর্শ সাত খুনের মাধ্যমে ।
তিনি আরও বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা আমার নামের বর্ধনাম করেছে । তিনি গত নির্বাচনে পিস্তল নিয়ে ভোটারদের ভয় ভীতি দেখিয়েছেন । ভোটারদের কে বিব্রত করেছেন । এবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের দিন মাঠে থেকে নির্বাচন করবো । তাই আইনজীবী ভোটারদের ভয়ের কোন অবকাশ নেই । পুলিশ প্রশাসন , ডিসি , এসপি ও এমপি এরা হলো জনগণের সেবক । যাতে করে ভোটাররা সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে ভোট দিতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে । আর যদি কোন প্রকার অরজগতা ঘটনা ঘটে তাহলে তার সম্পূর্ণ ভার তাদের কেই নিতে হবে ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহাবুব হোসেন বলেন, বিজয় আমাদের নিশ্চিত । এই বিজয়ের মাধ্যমে গনতন্ত্র কে পূর্ণ উদ্ধার করতে হবে । দেশে কোন গনতন্ত্র নেই । নেই কোন আইনের শাসন । আছে শুধু স্বৈরাচারী শাসন । নারায়ণগঞ্জের বিজয়ের মাধ্যমে গনতন্ত্র কে পূর্ণ উদ্ধার করতে শুরু করবো । আইন শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে এই নির্বাচনের মাধ্যমে সবাইকে প্রমাণ করতে হবে । ব্যক্তিগত স্বার্থ কে ভূলে গিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে । তাহলে বিজয় আমাদের নিশ্চিত । তাই আগামী 24 নভেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত বারী শাহিন পেনেল কে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে ।
সভাপতির বক্তব্যে এড তৈমর আলম খন্দকার বলেন, নির্বাচন এলো তারা এখন আইনজীবীদের বলে আমরা নির্বাচিত হলে দুই কোর্ট এক সাথে খাবো । পাঁচ এমপিরা তখন কোথায় ছিল । যখন সরকার টেন্ডার ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলো তখন কেন তারা বললেন না যে আমরা দুই কোর্ট দুই স্থানে চাই আমরা একই জায়গায় চাই । সত্যি হলো নির্বাচন এলেই শুধু আইনজীবীদের আস্বাস দেন ।
তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়েছি । আমরা এই একত্রা ধরে রাখতে চাই । স্বাধীনতার পর এদেশে বাকশাল কায়েম করতে চেয়েছিল কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা করতে দেই । তিনি বাকশাল হতে এদেশের মানুষের অধিকার আদায় করার মাধ্যমে গনতন্ত্র কে পূর্ণ উদ্ধার করে । তাই আগামীতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও গনতন্ত্র কে পূর্ণ উদ্ধার করতে সকল আন্দোলন সংগ্রামে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে ।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আগামী নির্বাচন আইনজীবীদের জন্য গুরুত্ব পূর্ণ । যারা এখন বলে আমরা দুই কোর্ট এক সাথে রাখবো । তারাই দুই কোর্ট দুই জায়গাতেই বিভক্ত করে ছিল । 2009 সালে তথকালিন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ দিয়ে তারা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন । আমরা তখন সেই সভা বর্জন ও প্রতিবাদ করে ছিলাম ।
তিনি বলেন, আইনজীবী সুখে দুঃখে কারা থাকে তাদের কেই নির্বাচিত করতে হবে । এড মহিউদ্দিন আলতাফ কে খুন করা হয় । তখন তারা মুখ বন্ধ করে বসে ছিল । আমরা কেউ সাত খুনের মামলায় কোন আসামীর পক্ষে কাজ করি না । তারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাত খুনের মামলায় করতে বলে । তারা সাত খুনের মামলায় কাজ করে এড চন্দন শীলের রক্তের সাথে বেইমানি করেছে । তারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে আবারো নির্বাচনে জয়ী হতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে ।
এর আগে দুপুর প্রচারনা ও গন সংযোগ শেষ দিনে উৎসব মুখর পরিবেশের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত বারী শাহিন পেনেল প্রার্থীরা আদালত পাড়ায় গন সংযোগ ও প্রচারনা চালিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন ।
