বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ ৩ জন দগ্ধ হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার চিতাশাল এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরনে আহত (দগ্ধ) মাটি কাটার শ্রমিক রায়হান(৩৪),স্ত্রী মায়া(২৭), ও তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান মরিয়ম(২)কে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে। তবে আহতদের মধ্যে কন্যা সন্তান মরিয়মের অবস্থা আশংকা জনক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িত সন্দেহে সাইফুল ও সাকান নামে দুই জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার পার্শ্ববর্তী সাখান মিয়ার বাড়ির গ্যাসের রাইজারে লিকেজ হয়ে গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। বিল্লাল হোসেন তার বাড়ির ভাড়াটেদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে গ্যাস লিকেজ বন্ধের জন্য তাদের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। তবে তারা কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেয়ায় সারারাত গ্যাস নির্গত হয়ে বিল্লাল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটে দিনমজুর রায়হানের ঘরে জমাট হয়ে থাকে। সকালে রায়হান ঘুম থেকে উঠে ধুমপান করতে গেলে ঘরে আগুন ধরে যায় এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় ঘরের চাল উড়ে যায় এবং সব আসবাবপত্র পুড়ে যায়। আগুনে রায়হান, তার স্ত্রী আশা বেগম ওরফে মায়া এবং তাদের দুই বছরের কন্যা মরিয়ম দগ্ধ হয়। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে এবং দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত এই রাইজারের লিকেজ মেরামত না করলে আরো বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে বন্দর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, জমাট বেঁধে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে এ ব্যাপারে তারা আরো তদন্ত করবে।
বন্দর ফাঁড়ি পুলিশ অগ্নিকান্ডের কারণ হিসেবে একই ধারণা প্রকাশ করে জানায়, তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে গ্যাসের রাইজারের লিকেজ দ্রুত মেরামতের জন্য বাড়ির মালিক ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
