বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে নাটক সাজিয়েছে ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান ও তার পিতা আবদুল মতিন মাষ্টার। তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষ সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন মাষ্টারকে মারধর করার গুজব ছড়িয়ে এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করে গতকাল রোববার রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও পুলিশের উপস্থিতিতেই মহড়া দেয় হাসান বাহিনী। এলাকায় ছেলের অধিপত্য বিস্তারের জন্য নিজের মান ইজ্জতকে বিসর্জন দিয়ে মতিন মাষ্টার মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, ও তার ভাই মনিরুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামসহ ৫ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছে কাউন্সিলর হাসান। যা এলাকায় ব্যাপক হাস্যজনক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বলে জানা গেছে, নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড শিমরাইলস্থ সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের বাড়ীর একাধিক আম গাছ কেটে ফেলে কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান। এ নিয়ে ১৩ নভেম্বর দুপুরে হাসানের সাথে নজরুলের ভাই জহিরুলের কথা কাটাকাটি হয়। পরে রাত সাড়ে ৭ টায় নজরুল ইসলাম,তার ভাই মনিরুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম এ বিষয়টি হাসানের পিতা আবদুল মতিন মাষ্টারকে জানাতে যায়। এ বিষয় নিয়ে মতিন মাষ্টারের সাথে কথা বলার সময় কাউন্সিলর হাসান এসেই তার পিতার সামনেই নজরুলের ছোট ভাই জহিরুল ইসলামকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। এসময় হাসানের সাথে থাকা আজিবপুরের বিএনপি সন্ত্রাসী কাইয়ুম ওরফে কসাই কাইয়ুম,রুহুল আমিন,ওমর (ওরফে গ্যাস ওমর) বিএনপি রাজিব, কসাই কাদির সহ ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী মোঃ নজরুল ইসলাম ও হাজী মনির হোসেনকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। মোঃ নজরুল ইসলাম ও হাজী মনির হোসেন আহত জহিরকে নিয়ে চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কাউন্সিলর হাসান ও তার বাহিনী গুজব ছড়ায় মোঃ নজরুল ইসলাম ও হাজী মনির হোসেনর লোকজন মতিন মাষ্টারকে মারধর করেছে। প্রবীন নেতা হিসেবে মতিন মাষ্টারকে মারধরের মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করে এবং আওয়ামীলীগের নেতাদেরকে আই ওয়াস করার একটি কৌশল করে কি বলে মানুষকে ভুকা বানানো যায় হাসান ও তার পিতা আব্দুল মতিন মাষ্টার রাত ৮ টায় শিমরাইলস্থ বন্ধকৃত তাজ জুট মিল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও নজরুলের অফিস,বাড়ী-ঘরে হামলা করার প্রস্তুতি গ্রহন করে হাসান বাহিনী। এ খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জসিম উদ্দিন, ওমর ফারুক, জসিম ও এএসআই নূরুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। উত্তেজিত এলাকাবাসীর সামনে অসহায় হয়ে পড়ে পুলিশ। থানা এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সর্বস্থরের মানুষ ক্ষেপে যায় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মোঃনজরুল ইসলামের উপর হামলা । পরিস্থিতি চলে যায় হাসানের অনুকুলে। গুজব কাজে লাগিয়ে পিতা মতিন মাষ্টারকে মারধর করার অভিযোগে কাউন্সিলর হাসান বাদী হয়ে নজরুলের ভাই মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ জনের নামে রাতেই থানায় এজাহার দায়ের করে। পরে গতকাল(১৪ নভেম্বর) এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করে পুলিশ। যার নং ১৭। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৫০৬/১১৪ দন্ড বিধি। মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলো, শিমরাইল এলাকার মৃত ধনু মেম্বারের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪২), মোঃ নজরুল ইসলাম (৪৪),মোঃ জহিরুল ইসলাম (৪০), আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকার নাজমুল হাসানের ছেলে মোঃ শাহজাদা (৪৩) ও কদমতলী কলেজপাড়া এলাকার মোঃ ইদ্রিছ মিয়ার ছেলে মোঃ আবুল (৪৭)। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কাউন্সিলর হিসেবে জনস্বার্থে শিমরাইল সড়কের দু‘পাশের গাছের ডালপালা কেটে লাইটিং করার কাজ করা হচ্ছে। গত রোববার রাত ৭ টায় বাদীর পিতা মতিন মাষ্টার শিমরাইল মাদ্রসার নিচে মায়া ফার্মেসী হতে পায়ে হেটে বাসায় ফিরার পথে আসামিরা পথরোধ করে গাছের ডালপালা কাটার বিষয়ে বাদীর নাম ধরে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। মতিন মাষ্টার প্রতিবাদ করায় আসামিরা তাকে এলোপাথারি কিলঘুষি ও চড় থাপ্পর মেরে নীলাফুলা জখম করে। তখন মতিন মাষ্টারের ডাক চিৎকার শোনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে বাদী হাসান ও তার পিতা মতিন মাষ্টারকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসামিরা চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিমরাইল সড়কের পাশে নজরুল ইসলামের বাড়ীর আম গাছের ডাল কাটার বিষয়ে দুপুরে হাসানের সাথে কথা কাটা কাটির ঘটনায় নজরুল,মনির ও জহির তারা ৩ ভাই এক সাথে মতিন মাষ্টারের কাছে বিচার দিতে আসে মায়া ফার্মেসীতে। উল্লেখ্য প্রতিদিন বাদ ঈশা মতিন মাষ্টার মায়া ফার্মেসীতে কিছুক্ষণ আড্ডা দেন। বিষয়টি মতিন মাষ্টার দেখবে এ কথা বলা শেষ হতে না হতেই কাউন্সিলর হাসান এসে জহিরুল ইসলামকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। এসময় হাসানের সাথে আজিবপুরের বিএনপি সন্ত্রাসী কাইয়ুম ওরফে কসাই কাইয়ুমসহ ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল। এসব সন্ত্রাসীরা নজরুল,মনির ও জহিরকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এসময় মতিন মাষ্টার তার ছেলে হাসানকে চড় থাপ্পর দিয়েও বিরত রাখতে পারেনি। নিজের দূষ আড়াল করতে হাসান গুজব ছড়ায় নজরুলের ভায়েরা মিলে তার পিতা মতিন মাষ্টারকে মারধর করেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে,মতিন মাষ্টারের সাথে নজরুলের সম্পর্ক চাচা ভাতিজার। নজরুল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। প্রথম নির্বাচনেও নজরুল নূর হোসেনের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচন করেছে। উপ-নির্বাচনের আরিফুল হক হাসানের প্রতিপক্ষ হিসেবে নজরুল নির্বাচন করেছে। আসছে নির্বাচনেও নজরুল কাউন্সিলর নির্বাচন করবে। নজরুল এং হাসান একই বাড়ীর বাসিন্দা। সম্পর্কে চাচাত ভাই হলেও কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। আগের দু,টি নির্বাচনে শিমরাইল এলাকায় বেশী ভোট পেয়েছে নজরুল। তাই আসছে নির্বাচনে নজরুলের কারণে হাসান শিমরাইল এলাকায় বেশী ভোট পাবেনা। তাই হাসান নজরুলকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন ফন্দি করছে। সড়কের লাইটিং করার বিষয়টি সিটির অর্থায়নে হচ্ছেনা। নির্বাচনী সুবিধা পেতে হাসান তার নিজস্ব অর্থায়নে কিছু লাইট লাগাচ্ছে। এই লাইট লাগানোর নাম করে নজরুলের বাড়ীর সকল আম গাছের ডাল কেটে ফেলে। তুলনামূল ভাবে অতিরঞ্জিত ভাবে কেটেছে ডালগুলি। এটি হাসান ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছে ভেজাল লাগানোর জন্য। সে পরিকল্পনা মতেই নজরুলসহ তার ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে।
