নারায়ণগঞ্জ,বিজয় বার্তা ২৪
জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে পঞ্চম শ্রেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী মুসলিমিম শ্রাবন্তীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে ওই এলাকার ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহা¯্রাধীক শিক্ষার্থী, অভিবাবক ও এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করার ঘোষনা দেয়। সোমবার সকাল ১১টায় শিমরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা শিমরাইল ডেমরা সড়কের উভয়পাশে দাড়িয়ে মানববন্ধন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারাদেশে শিশু নির্যাতন চলছে। আর কোন সন্ত্রাসী যাতে এরুপ ঘটনা ঘটাতে না পারে, এরুপ ঘটনার প্রতিরোধে আজকের এই সমাবেশ। আইনশৃংখলা বাহিনী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান ।বক্তারা আরো বলেন, একের পর এক শিশু নির্যাতন চলছে। এক কোনটির বিচার সরকার করতে পারেনাই। তাই সন্ত্রাসীরা আরো সক্রিয় হয়ে অপরাধ কর্মকান্ডর করছে। তারা এসকল সন্ত্রাসীরেদর দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রশাসনকে আহবান করছি।
সমাবেশ উপস্থিত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই অখিল রঞ্জন সরকার বলেন, মামলায় উল্লেখিত আসামীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার এ মামলার আসামী মোঃ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকাবাসীসহ সকলের কাছে তিনি দোষীদের আটকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করেন।
নৃশংস কর্মকান্ডের প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানবন্ধনে একাতœতা প্রকাশ করে যোগদেন শিমরাইল ডিএনএস আলিয়া মাদ্রাসার গভনিং বডির সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিন মাষ্টার, সদস্য আক্কাস আলী, অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ফরিদ উদ্দিন, শিমরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক রওশন আরা, শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাই স্কুলের প্রধান, শিক্ষক মজিবুর রহমান প্রধান ও নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা। এ সময় শ্রাবন্তীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই অখিল রঞ্জন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ ভোরে শিমরাইল ডিএনএস আলিয়া মাদ্রাসার ৫শ্রেনীর শিক্ষার্থী মুছলিমিম শ্রাবন্তী খাতুন (১১)কে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্রাবন্তীর গলা কাটার চেষ্টাকালে তার ডাক-চিৎকারের এলাকাবাসিরা এগিয়ে আসলে সস্ত্রাসীরা এলোপাথাড়ি ভাবে শ্রাবন্তীর পেট, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহতবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে শ্রাবন্তির অবস্থা আশংকাজনক বিধায় কর্তব্যরত ডাক্তার শ্রাবন্তীকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পরে রাত ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আহত শ্রাবন্তীর ভাই রাব্বি বাদি হে মোঃ আলী, মুক্তার, মুজিবুর ও রবিউলের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।আহত মুছলিমিম শ্রাবন্তী শিমরাইল ডিএনএস আলিয়া মাদ্রাসার ৫শ্রেনীর শিক্ষার্থী। সে নরসিংদী জেলার শিবপুর এলাকার মৃতঃ মফিজ সরদারের মেয়ে ও শিমরাইল এলাকায় আলিম উদ্দিন এর বাড়ির ভাড়াটিয়া।