লাঙ্গলবন্দ স্নান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
নারায়ণগঞ্জ,বিজয় বার্তা ২৪
লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে রোববারের মধ্যেই ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের পর সোমবার সকালে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভা থেকে লাঙ্গলবন্দ স্নানের সার্বিক আয়োজন নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা হবে।
রোবাবার ৩ এপ্রিল সকালে লাঙ্গলবন্দে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষে স্নান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যৌথ মত বিনিময় সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
ওই যৌথ মত বিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) গাউছুল আজম, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মিনারা নাজনীন, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা হোসেনে আরা, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল কালাম, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
তবে ওই মত বিনিময় সভায় ১৯ সদস্য বিশিষ্ট স্নান উদযাপন পরিষদ কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে মাত্র ৪ জনই উপস্থিত ছিলেন। কমিটির বাকি সদস্যদের নাম জানতে চাওয়া হলেও সঠিকভাবে বাকি নাম গুলোও বলতে পারেনি লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব চক্রবর্তী।
এর আগে দুই দফায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেলা প্রশাসনের সাথে স্নান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দে মত বিনিময় ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সাথে লাঙ্গলবন্দ স্নান উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মত বিনিময় ও আলোচনা সভা করেছেন কমিটির নেতৃবৃন্দরা। ওই প্রত্যেকটি সভা থেকে লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের কাছ থেকে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তাদের চাহিদার কথা জানতে চেয়ে লিখিতভাবে প্রস্তাবনা দিতে বলা হয়ে ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা সংসদ সদস্য অথবা জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত কোন প্রস্তাবনা জমা দেন নাই।
রোববারের সভায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান তাদের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাবনা চাইলে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোন প্রকার লিখিত প্রস্তাবনা পেশ করতে পারেনি।
সেই সাথে আলোচনা সভায় কমিটির নেতৃবৃন্দদের অর্ন্তকোন্দলের বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে উঠে।
তখন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান লাঙ্গলবন্দ স্নানে গত বছরের ঘটে যাওয়া ১০ জন পূন্যার্থীর প্রানহানীর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, গত বছরের ঘটনা শুধু মাত্রই একটি অপপ্রচারের কারনে ঘটেছে। প্রথমে বলা হয়েছে গাছের তলায় লাশ পাওয়া গেছে। পরে বলা হয়েছে ব্রিজ ভেঙ্গে গেছে। ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার গুজবে মানুষ ছুটোছুটি করতে গিয়ে ১০ জনের প্রানহানী হয়েছে। ১০ জন মানুষ মারা যাওয়ার পরও কমিটির কোন কার্যক্রম ছিল না। ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে জেলা প্রশাসন এবং আমাকে ছুটে এসে টাকা জোগাড় করে লাশ যার যার বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অথচ গত এক বছরেও কমিটির পক্ষ থেকে তদন্ত করে দেখা হয়নি কারা অপপ্রচার করে ছিল। সেদিন কি ঘটেছিল। এতে করে স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হয় যে কমিটির নেতৃবৃন্দদের নিজের মাঝে একটি অর্ন্তদ্ব›দ্ধ রয়েছে এবং গত এক বছরেও তার নিরসন হয়নি। তাই আমি সকলের প্রতি অনুরোধ রাখবো আগে নিজেদের দ্ব›দ্ধ নিরসন করে বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করে আগামীকালের মধ্যে আপনাদের চাহিদার কথা লিখিত প্রস্তাবনা আকারে পেশ করবেন এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা শেষে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাকে সহ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে বিশ্ব ব্যাপী অসম্মানিত করা হয়েছে। কিন্তু এ বছর কোন অবস্থাতেই আমি নারায়ণগঞ্জের সম্মান ক্ষুন্ন হতে দিবো না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন প্রকার অবনতি হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। আর অর্থ উপার্জন হয় এমন কোন কাজ উৎসবের দিন স্নান উদযাপন কমিটি করতে পারবেনা। প্রয়োজনে সেবা ক্যাম্প গুলো তাদের পূর্বের স্থান পরিবর্তন করতে পারে। এক্ষেত্রে সেবা ক্যাম্প অথবা মেলার দোকান যেটিই বসানো হোক সবাই ¯œান কমিটির কাছে লিখিতভাবে আবেদন করবেন। স্নান কমিটি সেগুলো জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাবে। জেলা প্রশাসন থেকে তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে।
সংসদ সদস্য সেলিম ওসামনের এমন প্রস্তাব সভায় উপস্থিত সকলেই সম্মতি জানালে ¯œান উদযাপন পরিষদের বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। ওই নতুন কমিটি সোমবার জেলা প্রশাসনের কাছে তাদের লিখিত প্রস্তাবনা পেশ করলে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য গত বছর মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসবে ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ার গুজবে পদদলিত হয়ে ১০ পূন্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনার খরব পেয়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের নিজ অর্থায়নে নিহতদের পরিবারের হাতে ২৫ হাজার করে টাকা দিয়ে তাদের লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ধর্মমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও স্নান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের অকার্য্যকর ভূমিকার কারনে তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।