স্টাফ রিপোর্টার,বিজয় বার্তা ২৪
দ্যা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের গ্রেফতার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় মামলা দায়ের করতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সব মামলাকে গণমাধ্যমের ওপর আঘাত আখ্যায়িত করে সাংবাদিক, সম্পাদক ও বিশিষ্টজনেরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তবে জয় দাবি করছেন, এসব মামলা গণমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়। এগুলো দেওয়ানি মানহানি মামলা, ফৌজদারি নয়।
অন্যের সুনাম ক্ষুণ্নের আগে সাংবাদিকদের দ্বিতীয়বার ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করে শুক্রবার সকালে জয় তার নিজের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে বলেন, যদিও এই পেশার লোকেরা সামান্য জবাবদিহিতাও চান না। তার বদলে তারা একে গণমাধ্যমের ওপর আঘাত আখ্যা দিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চান।
শুক্রবার নিজের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ জয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের পক্ষ নেয়ায় সুশীল সমাজেরও সমালোচনা করেন।
ফেসবুকে দেয়া জয়ের স্ট্যাটাস-
আমাদের ‘সুশীল সমাজের’ কিছু অংশ এবং কয়েকটি সংবাদপত্রের সম্পাদক আমার মায়ের বিরুদ্ধে মাহফুজ আনাম কর্তৃক চালানো মিথ্যা সাজানো প্রচারণার স্বীকারোক্তির পর তার বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলাগুলোর সমালোচনা করছেন। আমাদের সরকার তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেনি। মামলাগুলো সবই দেওয়ানি প্রকৃতির, যা খেসারত এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে দায়ের করা।
জয় প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি জানতে চাই, যা কিছু ঘটেছে তাতে গণমাধ্যমকে দায়মুক্তি দেয়া যায় কিনা? মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছেন, কেবল একটিই নয়, এসব মিথ্যা কাহিনী ধারাবাহিকভাবে তিনি আমার মায়ের বিরুদ্ধে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা এবং একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চালিয়েছেন। তার কর্মকান্ডের ফলে আমার মা তার এই বয়সে ১১ মাস জেলে কাটিয়েছেন। এতো সবকিছুর পর তিনি বলেন, ‘ওহ হো, আমার ভুল হয়েছে!’ এবং আমাদের সেসব ভুলে গিয়ে এগুতে হবে?
তিনি বলেন, আমার মা, আমার পরিবার এবং আমাদের দল আওয়ামী লীগ কোনো বিচার পাবে না? সেখানে কোনোই জবাবদিহিতা থাকা উচিৎ না?
জয় লিখেন, রাজনীতিকদের আইন মেনে চলতে হবে, নয়তো জেলে যেতে হবে। পুলিশকে আইন মেনে চলতে হবে, নতুবা জেলে যেতে হবে। কিন্তু মিথ্যা কাহিনী লেখার জন্য কোনো আইন থাকবে না? দেওয়ানি আইনে রাজনীতিক এবং বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের একমাত্র আশ্রয় হচ্ছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া। অন্য কিছু যদি নাও হয়, শুধুমাত্র উকিল খরচ এবং আদালতে যাওয়ার সময় বিবেচনায় একজন সাংবাদিককে মিথ্যা ছাপানো এবং অন্যের সুনাম ক্ষুণ্নের আগে দ্বিতীয়বার ভাবা উচিৎ। যদিও এ পেশার লোকেরা জবাবদিহিতাকে গণমাধ্যমের ওপর আঘাত আখ্যা দিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চান।
মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা গণমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়, এটা ফৌজদারি মামলাও নয়।এটা হল দেওয়ানি মামলা। আধুনিক আইনি ব্যবস্থাসম্পন্ন সব দেশেই এটা ঘটে।
জয় বলেন, আপনি যদি কারো ক্ষতি করেন, সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপনার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করার সব ধরনের অধিকার রয়েছে। মাহফুজ আনাম যদি হয়রানি করেন, মিথ্যা অভিযোগে ১১ মাস জেলে কাটানোর অনুভূতি কী তা তারও জানা উচিৎ।