বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ নারায়ণগঞ্জ জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শান্তি, সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, (র্যাব), এসআরবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিভিল সার্জন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব, রেড ক্রিসেন্ট, জেলা রোভারসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
এছাড়া জেলা ও মহানগর বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদ, পুজা উদযাপন ফ্রন্ট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, হিন্দু মহাজোট,জাগো হিন্দু পরিষদ, সম্মিলিত সনাতনী সংগঠন সমুহ, সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজয়া দশমীর দিনে ২১ অক্টোবর বুধবার রাতে জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার দাস বলেন,
“শারদীয় দুর্গোৎসব একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ও সৌন্দর্য কোনো একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারায়ণগঞ্জে সব ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবার জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও স্বস্তির বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্গোৎসবকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, ডিএসবি, সিআইডি, ট্রাফিক পুলিশ, র্যাব এসআরবি,আনসার, বিজিবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিসসহ প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক এবং সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমরা সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি—নিরাপদ সমাজ গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের দুর্গোৎসবে নারায়ণগঞ্জে সেই ঐক্য ও সমন্বয়ের যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”
নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল বলেন,
“দুর্গাপূজার সফল সমাপ্তি শুধু একটি উৎসবের সমাপ্তি নয়; এটি আমাদের পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও বিজয়। নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রমাণ করেছে, ধর্ম যার যার হলেও উৎসবের আনন্দ সবার। একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্গোৎসবকে ঘিরে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যে সমন্বয় ও সহযোগিতা দেখা গেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কোনো উৎসবকে সফল করতে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা। এবারের দুর্গোৎসবে আমরা তারই বাস্তব প্রতিফলন দেখেছি।”
লিটন চন্দ্র পাল বলেন, “আমরা চাই নারায়ণগঞ্জ হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে যেকোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আয়োজনে সবাই যদি একইভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে। দুর্গোৎসবের এই সুন্দর অভিজ্ঞতা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক
অরুন দেবনাথ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, আনন্দঘন ও সম্প্রীতিময় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবার প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী মা দুর্গার আগমন হয়েছিল ঘোড়ায় এবং গমন হয়েছে নৌকায় । বিজয়া দশমীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ৩ নম্বর ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ।
