বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
শারদীয় দুর্গোৎসব -২০২৬ এর আনন্দ সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় (৩য় দিন)বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, যুব ঐক্য পরিষদ এবং প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল ৫ টায় বন্দরের শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দির, সোনাকান্দা,ঋষিপাড়া প্রাঙ্গণে এ মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে বস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ জামালউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা লিটন চন্দ্র পাল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থার পরিচালক অরুন দেবনাথ, জেলা ঐক্য পরিষদের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য গোবিন্দ চন্দ্র দাস, মহানগরের সহ-সাধারণ সম্পাদক তপন চন্দ্র ধর,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সাহা পিংকু, জীবন সাহা, প্রচার সম্পাদক মানিক বিশ্বাস, বন্দর উপজেলা ঐক্য পরিষদের সহ সভাপতি নারায়ণ বর্মন, অবনী রঞ্জন হালদার, মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকন রিপন কর্মকার এবং বন্দর উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি তুলশী ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক জিতু দাস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন্দর উপজেলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি হরি সাহা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র দাস।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “দুর্গোৎসব আমাদের আনন্দ, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন আমরা নিজেদের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের মুখেও হাসি ফোটাতে পারি। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেওয়া এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার বন্ধন দৃঢ় করাই হোক আমাদের উৎসবের অঙ্গীকার। ধর্ম যার যার, কিন্তু মানবিকতা সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিটন পাল বলেন, “হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শুধু ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেই নয়, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অসহায় মানুষের কল্যাণেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সভাপতি হরি সাহা তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের দেশ। এ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলেই একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই উৎসবের পূর্ণতা অর্জিত হবে।
বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক চঞ্চলা বর্মন, বন্দর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কার্তিক সুত্রধর, ভবন বর্মন, সহ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী এবং প্রভাত সমাজ কল্যাণ সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মানবিক সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।
মানবতার সেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপস্থিত সবার মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে। নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
