বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
প্রয়াত কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক এনামুল হক প্রিন্সের স্মরণে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো আবেগঘন স্মরণসভা, কবিতা আবৃত্তি ও দোয়া মাহফিল।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কাব্যছন্দ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা পাঠাগার এবং নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির যৌথ আয়োজনে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। কাব্য ছন্দ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা পাঠাগার নারায়ণগঞ্জ এর সভাপতি ও জার্নালিস্ট ইউনিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আরজু’ র সভাপতিত্বে এর কাব্য ছন্দ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা পাঠাগার নারায়ণগঞ্জ এর সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ এর সার্বিক তত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে প্রয়াত প্রিন্সের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নিরবতা শেষে কবির প্রতি নিবেদিত লেখা কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ,আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী আনিসুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাব্যছন্দ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ওস্মৃতি চারণ করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ আহমেদ খোকন।
কবিকে নিবেদিত করে মানপত্র / শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন কবি ও সাংবাদিক সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম। প্রধান আলোচক ছিলেন উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল হক রুমন রেজা।
এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক রণজিৎ মোদক, সাংবাদিক আবুল হোসেন,নাট্য ব্যক্তিত্ব মাসুমুল হক সোহেল, আল আশরাফ বিন্দু,
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার যুগ্ম মহাসচিব সাব্বির আহমেদ সেন্টু, ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহীম, আনন্দধাম এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমু। এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ভাই মো: মোজাম্মেল হক।
কবিকে নিয়ে স্মৃতি চারণ ও কবিতা পাঠ করেন, কবি ডা. গাজী খায়রুজ্জামান, কবি ও শিক্ষক কামাল সিদ্দিক, জাদুশিল্পী কবির প্রধান,কবি শাহানা মান্নান বুলবুল,কবি শাহ আলম,কবি জাহাঙ্গীর ডালিম, কবি রাজলক্ষী, শুক্কুর মাহমুদ জুয়েল, রুদ্র, তাজুল ইসলাম, পারভীন আক্তার, রওশন আরাসহ প্রমূখ।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, কবি ও সাংবাদিক এনামুল হক প্রিন্স তার স্বল্প জীবনে শত শত সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদ অর্জন করেছিলেন। যা এখন অযত্নে নষ্ট হওয়ার পথে। তাই তার স্মৃতি ধরে রাখতে পরিবারের কাছে একটি সংরক্ষিত কক্ষ বা প্রিন্স কর্নার গড়ে তোলার জোর দাবি জানান বক্তারা, যেখানে তার অর্জিত সম্মাননাগুলো সাজিয়ে রাখা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। বক্তাদের এই আবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মতি জানানো হয়েছে এবং একটি কক্ষ দেওয়ার সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, প্রিন্স ছিল একাধারে কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক। তার অকাল প্রয়াণে নারায়ণগঞ্জের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হবার নয়।
প্রধান আলোচক ড. ফজলুল হক রুমন রেজা বলেন, এনামুল হক প্রিন্স ছিলেন তারুণ্যের প্রতীক। একজন প্রিন্স চলে গেছে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া কর্ম আমাদের পথ দেখাবে।
কাব্য ছন্দ পাঠাগারের সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, এনামুল হক প্রিন্স স্মরণে আমাদের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রতি প্রতিবছর তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে সাহিত্য প্রতিযোগীদের স্মৃতি পদক প্রদান করবে বলে জানান। এ ছাড়াও তাকে নিবেদিত লেখা দিয়ে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করবেন।
কবি পাঠ ও আলোচনা শেষে প্রয়াত প্রিন্সসহ সকল কবি ও সাংবাদিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়ার মোনাজাত পাঠ করেন কবি নাজমুল হোসাইন।

