বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অযৌক্তিকভাবে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে এবং জেলার প্রচার সম্পাদক শুভ দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন আলম, ভ্যান শ্রমিক সংহতির জেলা সভাপতি মোঃ ফরিদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি সৃজয় সাহা, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি জেলার সংগঠক মোঃ হাসান, দলের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সদস্য সচিব মোঃ সোহাগ সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমনিতেই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তার ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন জীবিকা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াত করেন। শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার ওপর আঘাত করছে। কোনো ধরনের যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছ হিসাব ছাড়া জনগণের ওপর অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।”
তরিকুল সুজন আরও বলেন, “বাস মালিকরা আন্দোলনরত ছাত্রদের বলেছে তাদের দেখে নিবে। আমরা বলছি, এমন হুমকি ধামকি শামীম ওসমানও দিতো। এসব দিয়ে কোন লাভ হয় না। আপনারাও কিভাবে অযৌক্তিকভাবে বাসের ভাড়া বাড়ান সেটাও আমরা দেখে নিবো। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান করবো আপনারা এসব বিষয়ে সোচ্চার হোন। আপনাদের নিস্ক্রিয়তা আজকে বাস মালিক কিংবা এই সিন্ডিকেটকে যা ইচ্ছা তা করার লাইসেন্স দিচ্ছে।”
তিনি অবিলম্বে বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাহার, গণপরিবহনে যাত্রীবান্ধব ভাড়া নিশ্চিত এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনজীবনে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে বক্তারা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং দাবি আদায়ে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

