বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা ও দেবযানী করকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি ধরা পড়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী করকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিনি ওই সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে এক সপ্তাহের ছুটিতে ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, দুই সহকারী কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গত ৩১ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত সদর উপজেলা, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সকাল ৯টার দিকে তিনি কার্যালয়গুলোতে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত পাননি। অথচ তাঁদের নামের পাশে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ছিল।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের হাজিরার বিষয়ে খোঁজ নেন। এ সময় দুটি সার্কেল অফিসের ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর দেখতে পান। কিন্তু স্বাক্ষর করা অনেকেই তখন কার্যালয়ে ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হলো নির্ধারিত সময়ে অফিসে এসে জনগণকে সেবা দেওয়া। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও কেউ অফিসে উপস্থিত না থাকলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনাটিকে ‘জালিয়াতি’ উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এর পরদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দুই এসিল্যান্ডসহ ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। শোকজ পাওয়া দুই এসিল্যান্ড হলেন, সদর উপজেলা রাজস্ব সার্কেলের সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের অংমাচিং মারমা। অপর ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বিভিন্ন পদে কর্মরত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী করকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিনি ওই সময় এক সপ্তাহের ছুটিতে ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শোকজের জবাব এবং পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে দুই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করে বদলি করা হয়েছে। অপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩১ আগস্টের পরিদর্শনের সময় শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়ই উঠে আসেনি। ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভোগান্তির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সরকারি ভূমিসেবা আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।
ওই দিন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন জটিলতার কথাও প্রতিমন্ত্রীকে জানান। সিএস জরিপে নদী, খাল ও বিল হিসেবে চিহ্নিত অনেক জায়গায় পরবর্তী আরএস জরিপে নদীর অস্তিত্ব না থাকা, চলমান জরিপের কারণে কয়েকটি মৌজায় ভূমি উন্নয়ন কর ও নামজারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং নদীর সীমানা নির্ধারণের পর জমির নামজারি ও খাজনা নিয়ে জটিলতার কথা তুলে ধরেন তিনি। এসব জটিলতার স্থায়ী সমাধানে উচ্চতর পর্যায়ে উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের হয়রানি কমানো এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি আরও জোরদার করা হবে।

