বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ‘জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প’-এর নামে অবৈধ বালু ভরাট, জোরপূর্বক তিন ফসলি কৃষি জমি ও পৈতৃক ভিটা-মাটি দখল এবং ঐতিহাসিক ‘ইছাখালী খাল’ উদ্ধারের দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সভা ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা মাদরাসায় ১০ গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সভা ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষায় গ্রামভিত্তিক ১০১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ সময় সভায় বক্তব্য রাখেন, রূপগঞ্জ অফিসার্স এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ব্যাংকার আবু বকর সিদ্দিক, নরসিংদী জেলা কোর্টের সাবেক পেশকার মো. শামসুদ্দিন মিয়া, পাট শিল্পের সাবেক সভাপতি মো. হাসেন আলী বেপারী, ভুক্তভোগী হাসনা বেগম, অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহীনীর সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, রফিকুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, প্রভাষক নূর সালাম, আমজাদ হোসেন, বাহার উদ্দিন নয়ন, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, সাইফুজ্জামান সুমন এবং হোসেন গাজীসহ অনেকে।
সভায় ইছাখালী, মাঝিনা, মাইলাব, হরিনা, পশ্চিমগাঁও, বড়ালু, পাড়াগাঁও, উল্লাবো ও ছাতিয়ানসহ কয়েকটি গ্রামের জমির মালিকদের নিয়ে ১০১ সদস্যের সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১০ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে কোনো ধরনের আইনি অধিগ্রহণ বা জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই ১৭টি মৌজার প্রায় ৭,০০০ বিঘা কৃষি জমি ও পৈতৃক বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের ওপর হামলা, মামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক খননকৃত ঐতিহাসিক ‘ইছাখালী খাল’ অবৈধভাবে বালু ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়ায় আশপাশের প্রায় ৫টি গ্রামের মানুষ চরম পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই খালটি নৌচলাচল, সেচ এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর প্রতিকারে রূপগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী পরিবার ও জমির মালিকদের পক্ষ থেকে শতাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের, থানা অভিমুখে মানববন্ধন, ইউএনও ও ডিসি কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এ সময় বক্তারা বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন, প্রধান দাবিগুলো:
জমি ক্রয় না করে এবং মালিকদের সম্মতি ছাড়া অবৈধভাবে বালু ভরাট বা রাস্তাঘাট নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
যেকোনো আবাসন প্রকল্প অবশ্যই সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির বাইরে স্থাপন করতে হবে।
অবিলম্বে আবাসন প্রকল্পের সীমানা (Demarcation) নির্ধারণ ও প্রকাশ করতে হবে।
সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি থেকে কমপক্ষে ৩০০ মিটার দূরে আবাসন প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে।
ঐতিহাসিক ‘ইছাখালী খাল’ থেকে অবৈধ বালু অপসারণ করে খালটি পুনখনন এবং পূর্বের অবস্থায় চালু করতে হবে।

