বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয়—মালিক পক্ষ থেকে হোক, শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে হোক বা পুলিশের পক্ষ থেকে হোক—সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ডেড থাকবে। আশা করি, এই প্রবণতা কমবে। জনগণের সহযোগিতায় আমরা মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারব। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন করে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে এসব কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল মনিটরিং সেন্টারে এ সিস্টেমের উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, নতুন এই ব্যবস্থায় মহাসড়কের বিভিন্ন কার্যক্রম ক্যামেরার আওতায় আসবে। ফলে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়বে এবং এ ধরনের প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
দেশের সব মহাসড়কে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত মহাসড়কে এই ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চালু করব ইনশাআল্লাহ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে কিছু ভুল-ত্রুটি যদি ধরা পড়ে, সেগুলো সংশোধন করে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সব মহাসড়কে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
এআই ‘অটো ফাইন সিস্টেমের’ মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। পরে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
জরিমানা একাধিকবার হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি বিআরটিএর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে এ ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই মহাসড়কে নন-মোটরাইজড কোনো ভেহিকেল অথবা থ্রি-হুইলার চলতে দেওয়া ঠিক নয়। সেটা আমরা মেইনটেইন করব।
তবে গ্যাস স্টেশন, বাজার এলাকা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও ফিডার রোডে যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশের প্রধানকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে স্থাপন করা হয়েছে ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা। মেঘনাঘাটে রয়েছে ডাটা সেন্টার এবং হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন কার্যালয় ও থানায় রয়েছে পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার।
প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করছে হাইওয়ে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ ও চালকের সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়ায় অনিয়ম ও হয়রানির সুযোগও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাট-বাজার, শিল্পকারখানা, বাসস্ট্যান্ড, ফিডার রোড, সংযোগ সড়ক এবং পর্যাপ্ত সার্ভিস লেনের অভাবের মতো বাস্তব সমস্যাগুলোও রয়েছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি এসব অব্যবস্থাপনা দূর করার উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবিরসহ সাংবাদিক, হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

