বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ৫টি সংসদীয় আসনের এমপিরা। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে চেম্বার অব কমার্সের পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজাহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বিসিবির পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, বিকেমএইএ এর সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, আহমেদুর রহমান তনু, সোহান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপির রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশাসহ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজের কর্মকর্তারা। সভায় শারিরীক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও মুঠোফোনে বক্তব্য রাখেন নারায়ণঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, আলাদাভাবে দাবি না তুলে পাঁচ সংসদ সদস্য একসঙ্গে উদ্যোগ নিলে তা বেশি কার্যকর হবে।“একই বিষয়ে পাঁচজন সংসদ সদস্য যদি একসঙ্গে ডিও লেটার দেন, তাহলে সেটা উপেক্ষা করার সুযোগ থাকে না।”।তিনি আরও বলেন, “আলাদা আলাদা কথা বললে সরকারের কাছে পরস্পরবিরোধী বার্তা যায়। এতে নারায়ণগঞ্জই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজাহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, আমি এনসিপির এমপি আলআমিনকে অন্যদলের মনে করি না। আমি মনে করি সে নারায়ণগঞ্জের সন্তান। আমরা ৫ এমপি মিলে চেষ্টা করবো নারায়ণগঞ্জকে মেটোপলিটন সিটি, মেট্রোরেলের আওতায় নিয়ে আসতে। ব্যবসায়ীরা হাল না ধরলে দেশ এগুবেনা। সবদিক দিয়েই রাজধানী ঢাকার পরেই নারায়ণগঞ্জ। আমরা নারায়ণগঞ্জ কেন পিছিয়ে থাকবো। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ থেকে আমরা মিছিল নিয়ে যোগ না দিলে সমাবেশ সফল হতো না। আমরা অধিকার নিয়ে গর্ব নিয়ে কথা বলতে ভয় পাইনা। ব্যবসায়ীারা সব সময়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন আপনারাও আমাদের সহযোগিতা পাবেন। নারায়ণগঞ্জের ৫ এমপি যদি এক থাকি তাহলে নারায়ণগঞ্জকে নারায়ণগঞ্জ এর ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনবো।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, নারায়ণগঞ্জের আমরা সকল এমপি একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। সমস্যা হলো অনেক শিল্প কারখানার মালিকরা রয়েছেন যারা চেম্বারের সদস্য হতে চাননা। কিন্তু দেখা যায় এক ছাতার নিচে না থাকলে অনেক সমস্যার সমাধানও করা যায়না। এমপিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা সব সময় আপনোদের পরামর্শের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে যেতে চাই। সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই। আপনাদের পরামর্শে এখনও যেমন চলছি ভবিষ্যতেও চলবো।
সভায় নারায়ণঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের যেকোন প্রয়োজনে আমাকে আপনাদের পাশে পাবেন। আমরা চেম্বারের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করবো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুন্দর সমৃদ্ধ প্রগতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছেন। আমরাও তার সহযাত্রী হিসেবে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে পাশে থাকতে চাই।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, “পাঁচই আগস্ট পরবর্তী সময়ে যখন দেশে কোনো জনপ্রতিনিধি ছিল না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি কার্যকর ছিল না, তখন নারায়ণগঞ্জের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিয়ে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য আমাদের থাকতেই পারে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শহরকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তোলার প্রশ্নে আমাদের কোনো বিভেদ নেই। এই ঐক্যের ভিত্তিতেই আমরা নারায়ণগঞ্জকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব।”

