বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
কোন ধরনের গণশুনানী ছাড়াই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের প্রিপেইড মিটার প্রকল্প জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্টজনরা। প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ জ্বালানী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পূর্বে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপন না করতে ডিপিডিসির প্রকল্প পরিচালকসহ উর্ধতনদের কাছে দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরতরা। যদি এরপরেও জনদাবি উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার লাগানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে এর দায়ভার বিদ্যুৎ বিভাগকে নিতে হবে বলে হুশিয়ারী দেন তারা।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুলস্থ ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর কারযালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্টজনরা।উক্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মোঃ হানিফ, ডিপিডিসি আইসিটি বিভাগের ডিজিএম কামরুল হাসান, ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (সাউথ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান। আন্দোলনরতদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহবায়ক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, সহসভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমন সহ সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিপিডিসি কৃর্তক কোনো প্রকার আগাম নোটিশ, ন্যূনতম জনমত বা গণশুনানি ছাড়াই গ্রাহকদের ওপর জোরপূর্বক, একতরফাভাবে এই প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের প্রকল্প। ওই প্রকল্পের ঠিকাদার হচ্ছে যুবলীগের এক নেতা। বিগত দিনে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটার ক্রয় করিয়ে কোটি কোটি টাকা নিজেদের পকেটস্থ করেছে। সভায় প্রিপেইড মিটার নিয়ে যেসব ভোগান্তি সেগুলো তুলে ধরে বক্তারা বলেন, যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে সেখানে কোনো প্রকার আগাম সংকেত বা মানবিক বিবেচনা ছাড়াই ব্যালেন্স শেষ হওয়ামাত্রই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। গভীর রাতে, বিশেষ করে ঘরে মুমূর্ষু রোগী, নবজাতক শিশু কিংবা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রাক্কালে এই আকস্মিক ও নিষ্ঠুর বিদ্যুৎহীনতা জনজীবনকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা চরম অমানবিক। প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং ভ্যাটের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা অন্যায়ভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এটি সাধারণ মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর ডিপিডিসি-র প্রকাশ্য ও জোরজুলুমমূলক নীতি। ডিপিডিসি-র অনলাইন রিচার্জ সিস্টেম ও ডিজিটাল অবকাঠামো চরমভাবে ত্রুটিপূর্ণ। প্রায়শই সার্ভার অচল থাকার কারণে টাকা পরিশোধ করেও গ্রাহকরা ব্যালেন্স পাচ্ছেন না। এছাড়া কার্ড পাঞ্চের জটিলতা ও মিটার লক হয়ে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ অফিসের কোনো তাৎক্ষণিক রেসপন্স বা কারিগরি সহায়তা পাওয়া যায় না, যা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা।
পরে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাধারণ মানুষ প্রিপেইড মিটার লাগাতে চায়না। আমাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ জ্বালানী মন্ত্রীর কাছে প্রিপেইড মিটারের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরতে চাই। প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ জ্বালানী মন্ত্রীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্টজনদের বৈঠকের আগে যাতে ডিপিডিসির কোন ব্যক্তি প্রিপেইড মিটার লাগাতে না যায়। যদি এরপরেও কেউ যায় তাহলে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে নারায়ণগঞ্জবাসী দায়ী থাকবেনা।
সভায় উপস্থিত ডিপিডিসির কর্মকর্তারা বলেন, তারা আন্দোলনের দাবির বিষয়গুলো জেনেছেন। এসব বিষয়ে তারা উর্ধতনদের জানাবেন।
