বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাব-পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত সর্দার দেলোয়ার হোসেন দেলু ওরফে মাষ্টার দেলু (৪০) র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এসময় নিহত মাষ্টার দেলুর ৩ সহযোগীকে গ্রেফতার এবং ঘটনাস্থল থেকে ৩টি বিদেশী পিস্তল, ১টি বিদেশী রিভলবার, ৪টি ম্যাগজিন, ৮ রাউন্ড গুলি, ১৩টি খালী খোসা, ১টি চাকু, ১টি চাপাতি, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি ল্যাপটপ, ৭টি মোবাইল, আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয়লব্দ নগদ ৩ লাখ ১ হাজার ৩’শ টাকাসহ বিপুল পরিমান অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন দেলু বাহিনীর সহযোগীদের আটক করার সময় র্যাব সদস্য সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো: আশরাফুল ইসলাম (নি:) ও কনষ্টেবল শহিদ আহত হয়। রবিবার (৩০ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৪ টায় নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের গোদনাইল বার্মাষ্ট্যান্ড এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল কমান্ডারের বাড়ীতে এ ঘটনাটি ঘটে। রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বন্দুক যুদ্ধে নিহত দেলু বাহিনীর প্রধান মাষ্টার দেলু মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার আলদী বাজার এলাকার মৃত মজিদ বেপারীর ছেলে এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নগর খানপুর এলাকার বাসিন্ধা। গ্রেফতারকৃত তার সহযোগীরা হলো: জেলার ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ তরুন সংঘ এলাকার বশির মিয়ার ছেলে মো: ফয়সাল হোসেন (২৮), শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার খেজুরতলা গ্রামের মৃত মঞ্জু মিয়ার ছেলে বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বার্মাষ্ট্যান্ড এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল কমান্ডারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মো: আক্তার হোসেন (২৭) ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানা সদরের মৃত এবিএম নুরুল হুদা বেনুর ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে শিহাবুল আলম শিহাব ওরফে আরিফ (৩৪)।
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১’র সদর দপ্তরে রবিবার দুপুর ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে: কর্নেল মো: কামরুল হাসান, পিএসসি জানায়, অস্ত্র তৈরী ও মেরামতে পারদর্শী হওয়ায় মাষ্টার দেলু হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দেলোয়ার হোসেন দেলু একজন কুখ্যাত ডাকাত সর্দার। তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজী, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলা ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে ২১টি মামলা রয়েছে। সবশেষ গত এক মাসে সে জেলা গোয়েন্দ পুলিশের (ডিবি) উপর দু’দফা গুলি বর্ষন করে পালিয়ে যায়। এছাড়া তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতো না। দেুল বাহিনীর প্রধান ডাকাত সর্দার দেলোয়ার হোসেন ওরফে মাষ্টার দেলু এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল।
তিনি আরো জানায়, র্যাব-১১ অনেক দিন ধরেই দেলুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় মাষ্টার দেলু ও তার ৩ সহযোগী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল বার্মাষ্ট্যান্ড পদ্মা অয়েল ডিপোর পাশে মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ইসমাঈল হোসেনের তিন তলা বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে অবস্থান করছে। রবিবার ভোর পৌনে ৪টায় ওই বাড়ীতে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানোর সময়ে বার বার দরজা খুলতে বলার পরও না খুলে তারা ভিতরে অবস্থান করে। একপর্যায়ে র্যাব সদস্যরা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে অন্ধকার ঘরে দেলু ও তার সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাতারী গুলি করতে থাকে এবং বিভিন্ন রুমে অবস্থান নেয়। গুলাগুলির একপর্যায়ে দেলু গুলি ছুড়তে ছুড়তে রান্না ঘরে ঢুকে পড়ে। র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়তে ছুড়তে দেলুকে অনুসরন করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরপরই দেলুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেলুকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওই সময় দেলুর ৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। গুলাগুলিতে র্যাব সদস্য সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো: আশরাফুল ইসলাম (নি:) ও কনষ্টেবল শহিদ আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সংক্রান্তে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও র্যাব জানিয়েছেন।
