বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্মেলন আজ বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিতে¦ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ওসমান আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবীব বুলবুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগ্ঞ্জ জেলার সভাপতি এম, এ, শাহীন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ।
কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। দেশের জিডিপি বাড়ছে বলে সরকার প্রতিদিন নিজের সাফল্য প্রচার করছে কিন্তু সাফল্যের ভিত্তি যে শ্রমিক তাদের অধিকার, মজুরি, জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন করলে সরকার ও মালিকশ্রেণি নীরবতা পালন করে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০% আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ২৭ বিলিয়ন ডলার বা ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি আয় থেকে মালিক মুনাফা করে, সরকার ট্যাক্স পায় কিন্তু যে শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে রপ্তানি আয় বাড়ে তাদের মজুরি কত? তারা কী খেয়ে জীবন যাপন করে, কেমন বাসায় থাকে, তাদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা কী? তাদের সন্তানরা পড়াশুনা করবে কীভাবে, তাদের বৃদ্ধ বাবা-মা বাঁচবে কীভাবে? এসব খবর জানতে চাইলে উত্তর নেই। মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ১৪৬৬ ডলার হয়েছে বলে সরকার ঘোষণা করেছে। এ অনুযায়ী ৫ সদস্যের পরিবার হলে প্রতি পরিবারের আয় কি এর ধারে কাছেও আছে? বাজার দর, বাড়িভাড়া, মালিকদের সক্ষমতা বিবেচনা করে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেছে। কমরেড রতন বলেন, রেশনে চাল, ডাল, তেল, চিনি সরবরাহ, শ্রমিকদের স¦াস্থ্যসম্মত আবাসন ব্যবস্থা, শ্রমঘন এলাকায় শ্রমিক হাসপাতাল স্থাপন ও চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবিও শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের। কিন্তু শ্রমিকদের শ্রমের ফলে সম্পদ সৃষ্টি, বৈদেশিক আয় ও জিডিপি বাড়লেও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির ব্যাপারে সরকার ও মালিকের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। গত বছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, স্পিকার, এমপি, সরকারি আমলা-কর্মচারি সবার বেতন দ্বিগুন হলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি।
কমরেড রতন বলেন,মালিকরা শ্রমিকদের ঠকিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়েছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে, সেকেন্ড হোম বানিয়েছে। তাই সচেতন শ্রমিকদের আজ ন্যায্য মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে সাথে শ্রমিক শোষণের এই সমাজ পাল্টানোর আন্দোলন শক্তিশালী করতে হবে। গার্মেন্টস্ শ্রমিক ফ্রন্ট তাই শ্রেণি সচেতন ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট মনে করে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ছাড়া সমাজে বৈষম্য দূর করা যাবে না। শ্রমিককে গণতান্ত্রিক অধিকার বঞ্চিত করে সমাজে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
ওসমান আলী বলেন, ২০০৬ সালে শ্রম আইন প্রণয়ন ও ২০১৩ সালে সংশোধিত শ্রম আইন প্রণয়ন হলেও শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। ২০১৫ সালে শ্রম বিধিমালা প্রণয়নের পর শ্রমিকদের হাত পা আইন দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে। আইন ও বিধিমালায় অসদাচরণের নামে শ্রমিক ছাঁটাই, ন্যায্য বোনাস থেকে বঞ্চিত করা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা হলে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দেয়ার সব বিধান আছে কিন্তু শ্রমিকরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্যে ট্রেড ইউনিয়ন করার পথ কঠিন করা হয়েছে। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রম আইন ও বিধিমালার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
নিখিল দাস বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট দীর্ঘদিন ধরে এই অসংগঠিত শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছে । নারায়ণগঞ্জের শ্রমজীবী মানুষ ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতিটি সমস্যায় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সামনের কাতারে থেকে আন্দোলন করছে। ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অভ্যুত্থান, আমজাদ হোসেন কামালের জীবন দান, অসংখ্য শ্রমিক নির্যাতন, মামলা, কারাবরণের মধ্য দিয়ে শ্রমিক ফ্রন্ট শ্রমিক অধিকারের ঝান্ডা উর্ধ্বে তুলে রেখেছে। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সংগ্রাম অব্যহত ভাবে এগিয়ে যাবে।
সম্মেলনে আলোচনাসভার পূর্বে একটি বর্নাঢ্য মিছিল শহর প্রদক্ষিন করে। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গণসংগীত পরিবেশন করে। সম্মেলনে ২য় জেলা কাউন্সিলে নির্বাচিত সেলিম মাহমুদকে সভাপতি ও জাহাঙ্গীর আলম গোলককে সাধারণ সম্পাদক করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট্য গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার নতুন কমিটি পরিচয় করে দেয়া হয়।

