বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে জেলা যুব ও ছাত্র মহাজোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু, কুমিল্লার মুরাদনগরে নারী ধর্ষণ, ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় মন্দির ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর হিন্দু মহাজোটের সদস্য মনোরঞ্জন দাস এবং সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্র মহাজোটের সহ-সভাপতি পার্থ সারথী রায়।
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সদস্য সচিব সম্ভুনাথ দে, সদস্য সুভাস দে, যুব মহাজোটের সভাপতি রবিন সরকার, উপদেষ্টা রতন দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রাণকৃষ্ণ ভৌমিক, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সুজন চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি শ্যামল দেবনাথ, পরশ হাজরা, প্রচার সম্পাদক শান্ত চক্রবর্তী, সহ-প্রচার সম্পাদক রাম মোদক, খোকন রায়, এবং রূপগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি বিনয় অধিকারী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, “খিলক্ষেতের আমাদের মন্দির বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে, অথচ একই এলাকায় অবৈধ দোকানপাট, দলীয় কার্যালয় এখনো বহাল তবিয়তে আছে। আমাদের বারবার টার্গেট করা হচ্ছে—কেন?”
তারা বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার—হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে বাংলাদেশ। কিন্তু কেন সংখ্যালঘু বলে আমাদের ওপর বারবার হামলা, লাঞ্ছনা হয়? আমরা কি মানুষ নই, না কি গরু-ছাগল?”
বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের ওপর অন্যায়-অবিচার বন্ধ না হলে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মানববন্ধনের প্রধান বক্তা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা বলেন, “আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম শান্তি ও সাম্যের জন্য, কিন্তু আজ নারী ধর্ষণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব ভায়োলেন্স এবং লুটপাটের মতো ঘটনাগুলো এ দেশকে কলঙ্কিত করছে। আমরা কি এই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম?”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, আমাদের এই দেশে টিকে থাকা দুরূহ হয়ে উঠবে। যদি স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, ও জমির অধিকার না থাকে—তবে আমাদের কী বিকল্প থাকে?”
আয়োজক সংগঠন দাবি জানায়— সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, সাম্প্রদায়িক হামলা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, এবং সংরক্ষিত আসনের মতো সাংবিধানিক স্বীকৃতি দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে।

