বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ী হলেও সংসার জীবনে জয়ী হতে পারেন নি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী। একাত্তরে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে এনেছিলেন বাংলার লাল সবুজের পতাকা। ১৮ বছর বয়সেই চলে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে সুন্দর আলী আদমজী জুট মিলের শ্রমিক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষন শুনেই মুক্তিযুদ্ধের যাওয়ার বাসনা হয়েছিলো তার। জাতীর জনকের আদর্শকে বুকে লালন করে দেশ বাচাঁতে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলেন সুন্দর আলী। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর দর্পে মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী যুদ্ধ করে স্বাধীন দেশের পতাকা ছিনিয়ে আনলেও সংসার জীবনে তেমন কোন সুখের জাল বুনতে পারেননি এ ফ্রিডম ফাইটার। চার ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে কদমতলী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। সরকার প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা ভাতা দিলেও তা দিয়ে জীবন চলায় অগ্রসর হতে পারেন নি সুন্দর আলী। প্যারালাইসিস ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অতি কষ্টে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলীর। ভুমিহীন সুন্দর আলী অর্থাভাবে এখন মানবেতন জীবন যাবন করছেন। মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলীর সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছি এ দেশ। ছিনিয়ে এনেছি লাল সবুজের পতাকা। ফিরিয়ে দিয়েছি মা বোনদের ইজ্জত। ফিরিয়ে দিয়েছি পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে এ দেশের মানুষের সন্মান। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২ নং সেক্টরের কমান্ডার খালদ মোশারফ হোসেন এবং সহকারি কমান্ডার হায়দারের অধীনে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এবং বান্দর ও সোনারগাঁ এলাকায় জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলেন সুন্দর আলী। ১৯৮২ সালে সুন্দর আলীর মুক্তিবার্তা নং: ০১০৪০৭০০৪৪ গেজেট নং-১২৭৪সহ যুদ্ধের সকল কিছু উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর দরখাস্ত করেও ভিটেমাটির সন্ধান পাননি মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলী। বছরের পর বছর ধরে সুন্দর আলী আশার বাসা বাধলেও কোন পথ পাননি তিনি। মুক্তিযুদ্ধা সুন্দর আলীর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের অনেক দিয়েছেন। দেশরতœ শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধাদের সন্মান দিয়েছেন আল্লাহ তাকে সন্মান দিবেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের মাথা গুজার ঠাই নেই। বহু কষ্টে ছেলে মেয়েদের পড়া শুনা করিয়েছি এখনো চলছে। আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাথা গুজার ঠাই চাই।
সুন্দর আলীর ছেলে বাদল বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ভাবতেই ভালো লাগে। বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। দেশ স্বাধীন করেছে। আমরা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে একটু সহযোগীতা চাই। আমার বাবা মাকে নিয়ে একটু ভালো ভাবে চলার সুযোগ চাই। সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করার সহযোগীতা চাই। মুক্তিযোদ্ধা সুন্দর আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বিশ্বের দরবারে উন্নয়ণশীল দেশে পরিনত হবে। তিনি বলেণ,যে মানুষটির ভালোবাসার টানে আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম সেই বঙ্গবন্ধু জাতীর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের লাল সবুজের সোনার বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধান মন্ত্রীর কাছে আমার কোন চাওয়া নেই। শুধু চাই বাকী জীবনে একটু মাথা গোজার ঠাই। আর সপ্নের সোনার বাংলা, যার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আরো বলেন, এ সরকারের আমলে স্বাধীনতা বিরুধীদের বিচার ও স্বাধীনতার ঘোষক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের ফাসির রায় কার্যকর হওয়ায় মরেও আমরা মুক্তিযোদ্ধরা শান্তি পাবো। তাই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করি ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মনে প্রাণে ধন্যবাদ জানাই।
