বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উত্তর ষোলপাড়া এলাকার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম হত্যার ঘটনায় খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ কর্মসুচি পালন করা হয়েছে। এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে সোনারগাঁ থানা ফটকে অবস্থান নেয়। এ সময় সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম আগামী ৭দিনের মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের আশ্বস্ত করেন। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা চত্ত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলামের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, খোরশেদ আলম এলাকার একজন নিরিহ ব্যবসায়ী তাকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশের ব্যর্থতার কারণে আসামীদরে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আমরা দ্রুত খুনিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। সন্ত্রাসীদের একটি দল পুলিশের সাথে আতাত থাকার কারণে খুনিরা ধরা পরছেনা বলে নিহতের স্বজনরা জানান। নিহত ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, আমার বাবাকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মেরে ফেললো আমি এখন কাকে বাবা ডাকবো। এসময় ফারিয়া প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন আমার পিতার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। মানববন্ধনে একাত্মতা জানিয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি বলেন মোরশেদ আলম পিপিএম জানান, আমরা খুনের ঘটনায় খুবই মর্মাহত। যারা খুন করেছে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুর ইসলাম এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, খোরশেদ আলম হত্যার ঘটনায় আপনারা যেমন খুনির বিচার চান আমিও তেমনি তাদের বিচার চাই। সাধারণ জমি নিয়ে একজন মানুষকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করতে পারে এটা আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আমরা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান, সোনারগাঁ পৌরসভার কাউন্সিলর দুলাল মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর মো: শহিদ, বৈদ্যেরবাজার ইউপি সদস্য মো: ইসমাইল মিয়া, মো: রেজাউল করিম, নিহতের চাচা সাইফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সোনারগাঁ পৌরসভার উত্তর ষোলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক আমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জাফর আলীর ছেলে সুলতান আহম্মেদের সাথে ফজর আলীর ছেলে বিসমিল্লাহ ডেকোরেটরের মালিক খোরশেদ আলমের সঙ্গে দীর্ঘ ২০বছর ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে গত ১লা মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে বিরোধকৃত জমির পাশে খোরশেদ আলমকে একা পেয়ে সুলতান আহম্মেদের নেতৃত্বে তার ছেলে সিফাত, ফাহাদ ও ৫-৭জনের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে আহত করে। এসময় তার আত্মীয় স্বজনরা এগিয়ে এলে সোহাগ, সজিব, নুরুল ইসলাম ও সিরাজুলকেও কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। পরে আহত ব্যবসায়ী খোরশেদকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। হত্যার ঘটনায় নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সুলতান আহম্মেদ, ফাহাদ, সিফাত, কবির হোসেন, সাজিম ও রমিজ উদ্দিনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

