বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
হুইলচেয়ারে বসে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করা একাধিক মামলার আসামি মীর হোসেন মীরুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর রসুলপুর বউবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সাদা পোশাকে থাকা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এক সদস্যকে আঙুল উঁচিয়ে প্রকাশ্যে শাসানোর একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রচার হতে থাকে।
জানা গেছে, সন্ত্রাসী মীরু কুতুবপুর অঞ্চলের অপরাধীদের গডফাদার। সেক্টর দখল থেকে শুরু করে সব ধরনের কর্মকাণ্ড করায় সে। কয়েক বছর আগে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে গোলাগুলিতে মীরু গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার পা কেটে ফেলা হয়। এরপর থেকে দুই পা নেই তার। দুই পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে বসে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে মীরু। কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায় সে। কারো সহযোগিতা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে না পারলেও ঘরে বসে অপরাধ জগৎ সামলায় মীরু।
মীরু নিজেকে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তার কোনো পদ নেই। কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন।
ডিবির ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, মীরুর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি একজন সন্ত্রাসী। তাকে ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বিদ্যুৎ আইনে একটি মামলার ওয়ারেন্টে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীরুকে গ্রেফতার করা দেখানো হয়। ডিবির হেফাজত থেকে আদালতে পাঠানো হয়। আজ বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত মিরুকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ফতুল্লার পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সন্ত্রাসী রাজীব তালুকদার ওরফে ভিপি রাজীবের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করে মীরু। মানববন্ধনে কনস্টেবল আব্দুল মতিন হাজির হলে উত্তেজিত হয়ে উঠে মীরু। একপর্যায়ে মীরু আঙুল উঁচিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে।

