বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নানা জল্পনা-কল্পনা অবশেষে আজ নারায়ণগঞ্জের বহু আলোচিত চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করবেন সৈয়দ এনায়েত হোসেন। প্রায় দীর্ঘ আড়াই যাবত বিচার কাজ শেষে এই রায় ঘোষনা হতে যাচ্ছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে গোটা নারায়ণগঞ্জবাসীসহ পুরো বিশ তাকিয়ে আছে। আর স্বজনরা সঠিক বিচার পাবে এ আশায় প্রায় দীর্ঘ আড়াই যাবত প্রহর গুনছে এবং তাকিয়ে আছে আদালতের দিকে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ লিং রোডের খান সাহেব ওসমানী ষ্টডিয়ামের সামনে থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী এড.চন্দন কুমার সরকার ও গাড়ি চালক ইব্রাহিম, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর আলম অপহরন হয়। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষা নদী বন্দর শান্তি’র চর এলাকায় থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ৬ জনের ও ১ মে এক জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খবর নারায়ণগঞ্জসহ সারা বিশে^ ছড়িয়ে পরলে উত্তপ্ত হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ শহর। রাজপথে নেমে আসে হাজারো জনতা অচল করে দেয়া নারায়ণগঞ্জ। এ ঘটনায় ২টি মামলা হয় একটি মামলা করেন বাদী হয়ে আইনজীবী এড.চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। ৭ খুনের মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, র্যাব-১১’র সিইও কর্ণেল তারেক সাঈদসহ র্যাবের শীর্ষ ৩জনসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। এর পরই তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এবং বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি চলে আসে নারায়ণগঞ্জের দিকে। নিহতদের পরবিারকে সান্তনা দিতে নারায়ণগঞ্জ আসেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টি শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরাও।
অপহরনের নির্দেশ দাতা নূর হোসেনের ভারতে পলায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী সাংসদের জড়িত থাকার মোবাইল কথপোকথন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর আরো বেশী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। একজন কাউন্সিলরের নির্দেশে কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মেয়ের জামাই তারেক সাঈদ তার নিন্মপদস্থ র্যাব কর্মকর্তাদের দিয়ে এমন জঘন্য ঘটনোয় র্যাবকে নিয়ে দেশজুড়ে জনমনে এক ভ্রান্ত ধারনার সৃষ্টি হয়। যা অবশ্য পরবর্তীতে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় র্যাব। ২০১৬ সালের ফেব্রয়ারী থেকে বিচার কাজের আইনী কার্যক্রম শেষ হয় গত ৩০ নম্বেভর। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল অপহরণের পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল চার্জশীদ এবং ১২ নভেম্বর নুর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে আনা হয়। এর পর থেকে শুরু হয় নানা নাটকীয় কাহিনী। আদালতে ভেতরে কাঠগড়ায় দাড়িয়ে সাক্ষীদের চোখ রাঙ্গানী, বাদী পক্ষকে হত্যার হুমকিসহ নাটকীয়ও পরে বিচার কাজ শেষ হলে। আগামী ১৬ জানুয়ারী বহু আলোচিত হত্যার রায় ঘোষনার দিন ধার্য্য করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এড.সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যে ভাবে ৭ খুন করা হয়েছে এটা খুব মর্মান্তিক ও নৃশংস। তাদের পরিবারের লোক জন এখনো কাদছে সুষ্ঠ বিচারের আশায় এবং আদালতের প্রতি সাধারন মানুষের আস্তা রয়েছে। সেই আস্থা থেকেই আমরা প্রত্যাশা আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি। । কারন সাক্ষ্য প্রমানের শেষে আসামীদের সম্পৃক্তা প্রমাণীত হয়েছে।
এব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড.ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, গত ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে মামলার ৮ মাসেই আইনি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ১২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক ও আসামীদের জেরাতে রাষ্ট্রপক্ষ আমরা আদালতে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছি। এ মামলার অভিযুক্তরা সবাই ৭ খুন থেকে শুরু করে অপহরন , হত্যা, গুম এর সাথে জড়িত ছিলো। তাই আসামীদের সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জান্নাচ্ছি।
সুষ্ঠ বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে তাকিয়ে আছে স্বজনহারাদের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এর বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেনের কাছে।

