বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দে প্রকল্পটি সম্পূর্নরূপে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সকলে একত্রে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ব্যক্ত করেছেন মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ নারায়ণগঞ্জের হিন্দু নেতৃবৃন্দরা।
বন্দ্রে সনাতন ধর্মবলম্বীদের মহাতীর্থ স্থান লাঙ্গলবন্দকে আর্ন্তজাতিক মানের তীর্থ স্থানে রূপান্তরিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ১৫ জানুয়ারী রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ক্যাফেটেরিয়ায় ¯œান উদযাপন কমিটির বিশেষ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
¯œান উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সরোজ কুমার সাহার সভাপতিত্বে বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান বলেন, আমি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার ¯œানে প্রাণহানি ঘটেছিল। দ্বিতীয় বছর নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন, স্থানীয় হিন্দু মুসলমান, আওয়ামীলীগ বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতারা একত্রে কাজ করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দ্বিতীয় বছরের ¯œান উদযাপন করেছেন। যা কিনা তীর্থে আসা প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত হয়েছে।
আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা সহ ধন্যবাদ জানাচ্ছি উনি একনেকে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছেন লাঙ্গলবন্দকে একটি আর্ন্তজাতিক তীর্থস্থানে রূপান্তরিত করার জন্য।
নারায়ণগঞ্জের হিন্দু নেতৃবৃন্দদের প্রতি আমার আহবান থাকবে লাঙ্গলবন্দ শুধু নারায়ণগঞ্জের হিন্দুদের সম্পদ নয় এটা সারা বিশ্বের হিন্দুদের তীর্থস্থান। আমি সকলের প্রতি আহবান রাখবো তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দের নেতৃত্ব যেন নারায়ণগঞ্জের হিন্দুদের হাতে থাকে। এটা নারায়ণগঞ্জের একটি ঐতিহ্য এই ঐহিত্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে এখনোই নেতৃত্ব দিয়ে আপনারা মত বিরোধ সৃষ্টি করবেন না। এটা শুধু ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প নয়। লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের উভয়পাড় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমি সহ আপনারা সবাই একত্রিতভাবে সাধারণ কর্মী হয়ে কাজ করবো। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো। পাশাপাশি এ ব্যাপারে আপনাদের কোন পরার্মশ থাকলে সেটাও আমরা জানাবো।
সভায় উপস্থিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি বলেন, লাঙ্গলবন্দে জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো রয়েছে। যেখানে বাইরের কোন অতিথি গেলে বসার স্থান দেওয়া যায় না। ডাকবাংলোর সামনেই একটি ডোবা পুকুর রয়েছে। যা কোন কাজে আসে না। তাছাড়াও নদীর পাড়ে আরেকটি ডোবা পুকুরের কোন প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আছেন যারা আমার কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছেন তাদেরকে একটি জায়গা দেওয়ার জন্য। যেখানে তারা নিজ অর্থায়নে হাইরাইজ ভবন নির্মাণ করে দিবেন। যেখানে তীর্থের সময় পূণ্যার্থীদের স্থান দেওয়া যাবে। প্রয়োজনে তৃতীয় তলা পর্যন্ত জেলা পরিষদের জন্য মার্কেট করে দেওয়া হবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের ওই জায়গাটি লাঙ্গলবন্দের পূর্ণ্যাথীদের জন্য ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিতে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগীতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দুই হাত ভরে দিচ্ছেন আমাদের উচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ বলেন, সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উদ্যোগ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রমানিত হয়েছে বন্দরের মানুষ উন্নয়ন নিয়ে কোন রাজনীতি করে না। উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামীলীগ বিএনপি ও জাতীয় পার্টি একত্রিত হয়ে কাজ করে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, হিন্দু নেতৃবৃন্দদের মধ্যে পরিতোষ কান্তি সাহা, শংকর কুমার সাহা। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার। আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এনই ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাহা, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সফিউদ্দিন প্রধান, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার ম-ল, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

