বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে। তারপর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের শ্রেণী চরিত্রের কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ ইউনূস পূঁজিবাদী শাসক শ্রেণীর’ই প্রতিনিধি। শুক্রবার (১১জুলাই) সকাল ১০ টায় আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ‘সিপিবি’ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম এসব কথা বলেন।
সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড লক্ষী চক্রবর্তী, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শিবনাথ চক্রবর্তী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস, ইকবাল হোসেন, আব্দুস সালাম বাবুল, সদস্য দুলাল সাহা, এম এ শাহীন, দিলীপ কুমার দাস প্রমূখ।
কমরেড শাহ আলম আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ছিল স্বৈরাচার ও বৈষম্য বিরোধিতা। এই আন্দোলনের বয়ানের মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক উপাদান ও বৈষম্যবিরোধী বক্তব্য ছিল প্রধান। কিন্তু দৃশ্যত এবং অদৃশ্য নানা কলাকৌশলের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও সুশীল সমাজের (এনজিও)’র একটি অংশ প্রধান হয়ে সামনে এসেছে। মানুষ আর কোন ফ্যাসিবাদী ভয়ের রাজত্ব দেখতে চায় না। এই মিশ্র চরিত্রের গণআন্দোলনের ফলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। নানা ধরণের লোকজন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র -সমাজ-অর্থনীতির এবং শোষকদের মূল চরিত্রের কোন পরিবর্তন হয়নি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে না হেঁটে সময় কালক্ষেপণ করে এমন অনেক এজেন্ডা সামনে এনেছে যা অনেকের নানা ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হিসেবে দৃশ্যমান। এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য উদার গণতন্ত্রের নামে মার্কিন প্রভাবাধীন একটা পশ্চিমা ধাঁচের আন্তর্জাতিক নয়া উদারবাদী নীতি ও ফিন্যান্স ক্যাপিটালের স্বার্থ রক্ষা করা। দেশি-বিদেশি শাসক শ্রেণি নিজ স্বার্থেই এমন কিছু সংস্কার করতে চাইছে, যাতে তাদের এ রূপ স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা যায়। এই পরিস্থিতিতে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে একটি শোষণ বৈষম্যবিরোধী বক্তব্য সামনে রেখে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচিত জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সমাজতন্ত্র অভিমুখীন বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তুলা। জনগণের সক্রিয় সমর্থনের শক্তিতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া ও সরকার গঠনের স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ‘বিল্ড আপ দ্যা পার্টি’, ‘বিল্ড আপ দ্যা ফ্রন্ট’, ‘বিল্ড আপ দ্যা মুভমেন্ট’ এই নীতির ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান।

