স্টাফ রিপোর্টার,বিজয় বার্তা ২৪
পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্পের মূল নদী শাসন প্রকল্প সংলগ্ন উজানে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট থেকে কান্দিপাড়া-যশোলদিয়া বরাবর ১ হাজার ৩০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। প্রকল্পটি সিঙ্গেল সোর্স ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে মোট ব্যয় হবে ৩৯২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবসহ মোট ১০টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় লিমিটেড টেন্ডারিং পদ্ধতিতে ভারত থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ দশমিক ৪৯৯ টাকা।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আওতায় ‘ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপ লাইন’ প্রকল্পের আওতায় জার্মান পরামর্শক মেসার্স আইএফএল কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্সের অনুকূলে ৩৬ মাসের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট (পিএমসি) এবং সংশ্লিষ্ট সেবার নতুন পেমেন্ট টার্মসহ কার্যাদেশের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর জন্য ব্যয় হবে ১ হাজার ৯১০ কোটি ১২ লাখ টাকা।
এ ছাড়াও একই প্রকল্পের অনুকূলে আগে অনুমোদিত ৭ দশমিক ১৮৪ মিলিয়ন ইউরোসহ মোট ৭ দশমিক ৩৯৮৮ মিলিয়ন ইউরো সংশোধিত মূল্যে কার্যাদেশ এবং চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
বৈঠকে গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের চন্দ্রসিন্দুরে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
বৈঠকে ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলি-বংশাই-তুরাগ-বুড়ীগঙ্গা রিভার সিস্টেম)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর দুটি স্থানে ও পুংলি নদীর একটি স্থানে সর্বমোট ৪০ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার খননকাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড’- এর মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এ কাজে ‘অফটেক রিভার ড্রেজিং’- এর আওতায় নিউ ধলেশ্বরী নদীর অফটেক (-) দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার থেকে শূন্য কিলোমিটার পর্যন্ত; ‘মেইন্টেন্যান্স ড্রেজিং’- এর আওতায় নিউ ধলেশ্বরী নদীর শূন্য (০) কিলোমিটার থেকে ২ দশমিক ২০ কিলোমিটার এবং পুলিং নদীর ২ দশমিক ২০কিলোমিটার থেকে ৪০কিলোমিটার পর্যন্ত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে খনন করা হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৬৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল নদীশাসন প্রকল্প সংলগ্ন উজানে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট থেকে কান্দিপাড়া-যশলদিয়া বরাবর ১ হাজার ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের নদীতীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ সিঙ্গেল সোর্স হিসাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আর এতে ব্যয় হবে ৩৯২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বৈঠকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ‘কুর্ণিবাড়ি থেকে চন্দনবাইশা পর্যন্ত যমুনা নদীর ডানতীর সংরক্ষণসহ বিকল্প বাঁধ নির্মাণ’শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কুর্নিবাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৫ দশমিক ৯ কিলোমিটার (বিআরআই ১২৪.৯ কিলোমিটার থেকে ১৩০.৮ কিলোমিটার) যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’- কে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৬৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
বৈঠকে গঙ্গা বাঁধ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের জন্য নিয়োগকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বিতীয় সংশোধিত চুক্তি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগে চুক্তিমূল্য ছিল ৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তা থেকে কমে নতুন চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে দেড় লাখ টন ডিএপি সার আমদানির একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক দর অনুযায়ী সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি টনের দাম ৪৫০ ডলার হিসেবে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির একটি প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পাঁচ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। প্রথম বছর প্রতি কিলোওয়াট/ ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২৬১৮ টাকা। পরবর্তী প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে দাম বাড়বে।