বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুর বিরুদ্ধে আরও একটি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই বিকাল থেকে মিরুকে গ্রেফতারে সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি ও ফতুল্লা থানার একাধিক টীম। ৩০ মার্চ শনিবার ফতুল্লা মডেল থানায় মীরু বাহিনীর বিরুদ্ধে হাজী মুসলিম মার্কেটের মালিক মামুন অর রশিদ এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলো, মীরু (৪০), আরিফ (৩০), শাকিল (৩০), মুরাদ (৩২), জাকির হোসেন (৪৫) সহ আরো অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জন।
মো. মামুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, পাগলা বৌ বাজার বটতলা এলাকায় আমার মালিকাধীন হাজী মুসলিম বাজার নামীয় মার্কেটের নির্মাণ কাজ প্রায় তিন মাস ধরে চলছে। এতে ১নং বিবাদী ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মীরু তার বাহিনী নিয়ে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষকে ভীতি প্রদর্শন সহ জিম্মি করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে থাকে। মীরু তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীরু এন্টারপ্রাইজ হতে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষকে ইট, বালু ও সিমেন্ট ক্রয় করতে বাধ্য করে। সে জেলা হাজতে থাকায় আমি আমার কাজ শুরু করলেও জামিনে বের হয়ে তার বাহিনী নিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পূর্বে হতে আমার নিকট ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। আমি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার মার্কেটের ম্যানেজার জলিল আহম্মেদকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এবং আমার মার্কেট নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়।
২৯ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টায় আমার মার্কেটের নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে বিবাদীগণ সহ আরো ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার কাছে ২০লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারপিট করতে উদ্যত হয়। এসময় আমার ম্যানেজার এগিয়ে আসলে ২নং বিবাদী তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে সে গুরুতর জখম হয়। এরপর হামলাকারীরা তাকে এলোপাথারিভাবে মারধর করে নীলাফুলা জখম করে। ৪ নং বিবাদী আমার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা দিতে বলে। প্রাণের ভয়ে আমি উঠলেও আমার বন্ধু রুবেলের পকেটে থাকা সাড়ে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আর আমার নির্মাণ শ্রকিদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এবং হামলা করে নির্মাণ সামগ্রীর ক্ষতিসাধন করে।
এর আগে গত জানুয়ারীতে মীরুকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। মীরুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি হত্যা, অস্ত্র আইনে ৩টি, মাদক আইনে ২টি ও চাঁদাবাজীতে ৯টি মামলা আছে।
