প্রেস বিজ্ঞপ্তি,বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ১৫ দিনের কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। যার অংশ হিসেবে সোমবার বন্দরের সিটি করপোরেশন এলাকার ৯টি ওয়ার্ড ও ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ কর্মসূচী শুরু করা হবে। এদিন বন্দরের বিভিন্ন স্পটে দিনব্যাপী মিলাদ, দোয়া ও কোরান খতম শেষে রান্না করা খাবার বিতরন করা হবে।
রোববার ১৪ আগস্ট সকাল ১১টায় বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন সুরুজ মিয়া টাওয়ারের তৃতীয় তলার কমিউনিটি সেন্টারে বন্দরের আওয়ামীলীগ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে মত বিনিময় সভায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এ কমর্সূচী ঘোষণা করেন।
ওই সভায় আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ সহ উপস্থিত জনপ্রতিনিধি সকলেই একত্রে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনের মধ্য নিয়ে ঐক্যের নজির সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মত বিনিময় সভায় সেলিম ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের রাজনীতি করতেন। উনার আহবানে সারাবাংলার মানুষ একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একই ধরনের রাজনীতি করছেন। উনি উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর মত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাদের অনুসরন করেই আমরা নারায়ণগঞ্জে উন্নয়নের রাজনীতি করে যাচ্ছি। বন্দরে এখন কোন দলীয় রাজনীতি নেই। যেটা আছে সেটা হচ্ছে উন্নয়নের রাজনীতি। অত্যন্ত শীতলক্ষ্যা সেতু, মদনগঞ্জের শান্তিরচরে নীট পল্লী, ও বন্দরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে দলীয় না করে উন্নয়নের রাজনীতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।
সেলিম ওসমান আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর বন্দরে ইউনিয়ন পরিষদ গুলো মোটামুটি কাজ করতে পেরেছি। কিন্তু সিটি করপোরেশন এলাকায় কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমি বার বার সিটি করপোরেশনের মেয়রকে বসে আলোচনার মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহবান রাখলেও উনি কোন সাড়া দেননি। যার ফলে আমি একজন সংসদ সদস্য হয়েও সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন কাজ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উনার পরিকল্পনা অনুযায়ী জনগনের গোলামী করতে নেমেছি। ভবিষ্যতে যারা উন্নয়নের জন্য একত্রে কাজ করতে পারবেন এবং মেয়র নির্বাচিত হয়ে জনগনের গোলামী করবেন তাদেরকেই জনগন ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। আজকে শহর জুড়ে যানজট, সামান্য বৃষ্টিতে শহরের প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যানজটের পাশাপাশি জলজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাটে ময়লা আর্বজনায় সয়লাব হয়ে গেছে। জনগনের গোলামীর মধ্য দিয়েই এ সকল সমস্যা সমাধান করে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে পরিবর্তন আনতে হবে।
সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের কর্মকান্ডকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড নয় বলে উল্লেখ করে সেলিম ওসমান বলেন, আমি যে সকল কর্মকান্ড করি মূলত সেগুলো কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড নয়। আমি ৭টি ইউনিয়নের ৭টি স্কুল বানাচ্ছি। আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি প্রতিটি এলাকার প্রাইমারি স্কুল গুলোকে আরো উন্নত করা হোক সেটা ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশন এলাকার। আপনারা দ্রুত স্কুল গুলোর তালিকা তৈরি করুন আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে আমরা স্কুল গুলোর উন্নয়নের কাজ ধরবো।
মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, যুগ্ম আহবায়ক আফজাল হোসেন, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, মদনপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি গোলাপ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, খোরশেদ আলম সাগর, মোহাম্মাদ হোসেন, সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, আনোয়ার হোসেন আনু, নারী কাউন্সিলর ইসরাত জাহান স্মৃতি, ইফাত জাহান মায়া, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ সহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও রাজনৈতিক দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
