বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আলোচিত নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের উপর নির্যাতনের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের তদন্তের গন স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে এই গন স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় হাইকোর্টের বিচার বিভাগীয় তদন্তের সাক্ষ্য নিয়েছেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) শেখ হাফিজুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম ও মো. গোলাম নবী।
শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ছাড়াও সাক্ষ্যের জন্য সম্ভাব্য বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সম্ভাব্য মোট ১৫ জনকে ডাকা হয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় দিনেও এলাকাবাসীর ব্যানারে শ্যামল কান্তি ভক্তের শাস্তির দাবি করে জেলা সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগকারী স্কুলছাত্র রিফাত হাসানসহ ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এ সময়ে শ্যামল কান্তি ভক্ত সাংবাদিকদের বলেন, আমি আল্লাহ ও রাসুল (সা.) নিয়ে কোন প্রকার কটুক্তি করি নাই। এটি সম্পূর্ন বানোয়াট। এটি রাজনীতিকভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। আমার বিরদ্ধে মিথ্যা প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রধান শিক্ষককে যারা অপমান করেছে এবং যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়ডন্ত্র করেছে আমি সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের দাবী করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি তদন্তের রেজুলেশন ও নোটিশ পেপার তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিয়েছি। আজ তদন্ত কমিটির কাছে সেইদিন যা যা ঘটেছে তা তুলে ধরেছি। আমি আশা করছি তদন্ত কমিটি একজন প্রধান শিক্ষককে যারা অপমান ও চাকুরিচ্যুত করতে চেয়েছিল তাদের সঠিত বিচার করবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে বন্দর উপজেলার কল্যান্দী এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে।
পরে হাইকোর্ট ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে (সিএমএম) তদন্ত করে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ৬ নভেম্বর হাইকোর্টে আদেশের দিন ধার্য রয়েছে।

