বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লার সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ লিটনের আপন ভাই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক মাসুম ফতুল্লা এলাকায় এখনো প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে।এলাকাবাসী রয়েছে আতংকে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা লালপুর এলাকায় তাকে কয়েকজন বিশেষ পেশার লোকদের সাথে গোপন বৈঠক করতে দেখা গেছে। ওই বিশেষ পেশার লোকেরা তাকে গ্রেফতার থেকে বাঁচাতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ দিচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় এলাকাবাসী। এদিকে বুধবার সকালে ফরিদ আহম্মেদ লিটনের ইট বালু সিমেন্টের দোকানের সামনে বন্দুক মাসুমকে প্রকাশ্যে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বলে প্রতক্ষ্যদর্শী স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়।
সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা লিটনের ছত্রছায়ায় বন্দুক মাসুম ভাগিনা বাবু বাহিনীর মাধ্যমে তার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন চালাচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এলাকা বাসীর অভিযোগ লিটনের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এক যুগ ধরে বন্দুক মাসুম মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। থানা পুলিশের কোন টীম তাকে আটক করে রাখতে পারেনি, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ মাত্র ২ বার বন্দুক মাসুমের মাদকের আস্তানায় অভিযান চালালে পুলিশ ৩ মণ গাজাঁ উদ্ধার করে।
মামলা দায়ের করলেও ওই সময় লিটনের সাথে পুলিশ দেন দরবার করে (৪২) ৫-২০১৩ মাদক মামলায় বন্দুক মাসুমকে বাদ দিয়ে চুড়ান্ত প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া গাজাঁ পরিত্যক্ত দেখায় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
এদিকে র্যাব-১১ বন্দুক মাসুমের বাসায় অভিযান চালিয়ে লুস ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহ একবার বন্দুক মাসুমকে আটক করে মামলা দেয় যার নং (৭৭) ১১-২০১৩, এ মামলায় এক সপ্তাহ কারাভোগ করে লিটনের রাজনৈতিক প্রভাব ও কালো টাকার জোরে বন্দুক মাসুম জামিনে বের হয়ে আবারো মাদক ব্যবসা সক্রিয় হয়ে উঠে বলে জানা গেছে। সুত্রে আরো জানা গেছে প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে বন্দুক মাসুম মাদক পাচার করছে এ সংবাদে ডিবি পুলিশের একটি টীম অভিযান চালায় দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায়, এসময় চর্তুর মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক মাসুম কৌশলে পালিয়ে গেলেও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ শত বোতল ফেনসিডিল সহ বন্দুক মাসুমের সহযোগী জলিলকে আটক করে, এঘটনায় জলিল ও বন্দুক মাসুমকে আসামী করে ডিবি পুলিশ মাদক মামলা দায়ের করেন। যার নং- (২৭)২-২০১৮ । এখন বন্দুক মাসুমের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হিসাবে প্রকাশ্যে সবকিছু দেখভার করে লিটনের আপন ভাগিনা বাবু, যুবলীগ ক্যাডার আমান, মোয়াজ্জেম বাবু, বোদেং স্বপন সহ আরো কয়েক জন উঠতি বয়সী যুবক।
বন্দুক মাসুম প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর কারনে ফতুল্লা এলাকাবাসীর মাঝে আতংক বিরাজ করছে।সুযোগ্য এসপি হারুনের নির্দেশে যেখানে ফতুল্লা মডেল পুলিশ মাদক নির্মূলে দিনরাত কাজ করছে। ইতিমধ্যে তারা বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী ধরতে সফল হয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি ফরিদ আহম্মেদ লিটনের আপন ভাই বন্দুক মাসুম ও ভাগিনা বাবু বাহিনীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে যুব সমাজ মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রেহায় পাবে না। এ ব্যাপারে ফতুল্লা এলাকাবাসী সুযোগ্য হারুন অর রশীদের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ লিটনের আপন মামা মজিবর ও মামানী হালিমা পাইলট স্কুলের পশ্চিম পার্শ্বে জেলার সবচেয়ে বড় হেরোইন স্পর্ট গড়ে তুলেছিলেন। মজিবর ও হালিমাকে ফতুল্লা এলাকা ধেকে পুলিশ মাদকসহ গ্রেফতারও করেছিল।মজিবর ও হালিমার মৃত্যুর পরে লিটন তার আপন ছোট ভাই বন্দুক মাসুম গড়ে তুলেন গাজাঁ, ফেনসিডিল, ইয়াবার সাম্রাজ্য আর এখন আপন ভাগিনা কথিত নামদারী ছাত্রলীগ নেতা ভাগিনা বাবু ও তার ছিচঁকে বাহিনী দিয়ে সংঘটিত করাচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড। আর এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে লিটনের ছত্রছায়ায়।লিটন তার ভাই বন্দুক মাসুম ও তার ভাগিনা বাবুর অপরাধের কথা কেউ বললে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।এই ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম জানান, ফতুল্লা এলাকায় মাদক নির্মূলে বন্দুক মাসুম সহ সকল মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হবে।কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে আমাদের এসপি স্যারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।আমরা ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

