বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে চলমান হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এমপি সেলিম ওসমান। সেই লক্ষ্যে প্রথমেই শহরে প্রথমেই শহরে হকারদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করার জন্য প্রত্যেকজন হকারের নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল, নাম্বার, ব্যবসার ধরন, পূর্বের দোকান বসার স্থান, ও ছবি একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেওয়ার কথা বলেন। পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের জন্য ২ দিনের সময় চেয়েছেন হকার নেতৃবৃন্দরা।
বুধবার ৩১ জানুয়ারী বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ.কে.এম সেলিম ওসমান এর সাথে হকার নেতৃবৃন্দের সাথে প্রায় ৩ ঘন্টব্যাপী আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।
হকার তালিকা তৈরি ব্যাপারে এমপি সেলিম ওসমান আরো বলেন, কোন অবস্থায় যেন কোন কর্মচারী বা আত্মীয় স্বজনের নাম সংযুক্ত করে ওই সংখ্যা বৃদ্ধি না করা হয়। যারা বর্তমানে শহরের বিভিন্ন সড়কে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা করছেন তাদেরকে এই তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। যদি তারা তালিকা ভুক্ত না হয় তাহলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারীর পর কোন অবস্থাতেই তারাও ফুটপাতে বসতে পারবে না। হকারদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর তিনি পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন। প্রথমাবস্থায় স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূর্ণাবাসন করা হবে। পর্যায়ক্রমে তালিকাভূক্ত বাকিদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে স্থায়ী পূর্ণবাসনের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। তাই উক্ত সময়ে মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি প্রস্তুতকৃত পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি পাওয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করবেন। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে আলোচনা করে স্থায়ী বন্ধোবস্ত না হওয়া সময় পর্যন্ত সাময়িকভাবে হলিডে মার্কেটের ন্যায় শুক্র ও শনিবার এবং অন্যদিন গুলোতে বিকেল ৫টার পর হকারদের ফুটপাতে বসতে দেওয়ার অনুমতি চাইবো। প্রয়োজনে মেয়রের হাতে ধরে রাজি করাবো। তবে অনুমতি পাওয়া গেলে কেবলমাত্র তালিকাভুক্তরাই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী নিদিষ্ট সময় মেনে আমরা ফুটপাতে দোকানদারি করতে পারবে। তবে মেয়রের অনুমতি ছাড়া কোন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে দোকান বসাতে সম্পূর্নভাবে নিষেধ করেছেন।
হকারদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেছেন, পূর্নাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর ঢাকার বঙ্গবাজারের মত হকারদের জন্য একটি মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা করবো। তবে সেটা সময় সাপেক্ষ। মার্কেট না হওয়া পর্যন্ত তোমরা কোন প্রকার আন্দোলনে না গিয়ে শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজার রাখবে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর ওই তালিকা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি, মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রয়োজনে শহরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষদের সাথে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের ব্যবস্থা করবো। এ ব্যাপারে আমি সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, স্থায়ী বন্দোবস্ত হওয়া সময়টুকুতে হকারদের ব্যবসায় যে আর্থিক ক্ষতি হবে আগামী দুটি ঈদে যাতে করে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
তিনি আরো বলেন, তোমরা আমাকে অনুরোধ করেছিলো আমি তোমাদের সাথে আলোচনা করে ছিলাম। মেয়রকে চিঠি দিয়ে ছিলাম। উনি চিঠির উত্তর দিয়ে ছিলেন। আলোচনা একটা পর্যায়ে ছিল। আমি বিদেশে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলা। সেই সময়টুকুতে কেন তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করলে না। কেন তোমারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলে। বিষয়টি মেয়র আইভী, এমপি শামীম ওসমান সহ সারাদেশে সরকার এবং আওয়ামীলীগের বদনাম হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। তোমরা যদি আমার প্রতি আস্থা রাখতে পারবে শান্তি বজায় রেখে ধৈর্য্য ধারণ করতে পারো তাহলে থাকতে পারো নয়তো চলে যেতে পারো আমি তোমাদের জন্য কিছু করতে পারবো না। কারণ আমি এবং মেয়র আইভী উভয়েই জনপ্রতিনিধি। আর জনগনকে শান্তিতে রাখার জন্যই আমাদের ভোট দিয়েছেন। আমাদেরকে আগে সাধারণ জনগনের শান্তির বিষয়টি ঠিক রেখে পরবর্তীতে তোমাদের নিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
এ সময় সভায় উপস্থিত হকার নেতৃবৃন্দ তাঁর প্রস্তাবে একমত পোষন করে হকাররা আন্দোলন পরিহার করে শহরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পাশাপাশি সম্প্রতি হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়ে ছিলো সেটি শুধুমাত্র একটি বুঝাবুঝি এবং এখানে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে বলে হকাররা সন্দেহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সকলের প্রতি দু:খপ্রকাশ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাতে করে আমরা দুবেলা খেয়ে পড়ে বাচাঁর সুযোগ দিতে স্থায়ী বন্দোবস্ত না হওয়া সময় পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জবাসী সহ সকলের কাছে আন্তরিকভাবে সহযোগীতা কামনা করছি।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, পরির্দশক আব্দুল রাজ্জাক, নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মুন্সি সহ অর্ধশতাধিক হকার।
