বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মহান মে দিবস আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ ১ মে সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনাওে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, ন্যায্য মজুরি, শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, শ্রমিক নিপীড়ন বন্ধ এবং সেলিম মাহমুদ, আল কাদেরি জয়, মিরাজ, সীমা আক্তার, রোকনউদ্দিনসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার মটরযান মেকানিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ যে সময় আমরা মে দিবসের ১৩৯ বছর পূর্তি পালন করছি সেই সময় সরকার ট্রেড ইউনিয়ন করার চেষ্টার অপরাধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে আমাদের গার্মেন্টস উইং এর গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রবিনটেক্স শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সীমা আক্তারসহ ৮ জনকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে এবং রিক্সা শ্রমিকদের রুটি রুজির আন্দোলনে সংহতি জানানোর অপরাধে চট্টগ্রামে রিক্সা সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি আল কাদেরি জয়, মিরাজ উদ্দিন ও রোকন উদ্দিন কে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। অথচ, সরকার প্রতিশ্রæতি দিচ্ছে তারা শ্রম ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়ন করবে। আমরা আজকের এই সমাবেশ থেকে বলতে চাই, শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রæতি কি সরকারের আচরণে প্রতিফলিত হচ্ছে? ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার শ্রমিকের মৌলিক অধিকার সেই অধিকার চর্চায় বাধা দেয়া বন্ধ না হলে, শ্রমিকের উপর নিপীড়ন করা বন্ধ না হলে অন্তর্ভূক্তিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনা বা বৈষম্য নিরষণের প্রতিশ্রæতি শ্রমজীবী মানুষের কাছে প্রতারণা হিসাবে পরিগণিত হবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১৮৮৬ সালে হে মার্কেটের রক্তাক্ত অন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সরকার ৮ ঘন্টা কাজের অধিকারের যে স্বীকৃতি অর্জন করেছিল তার সাথে ন্যায্য মজুরি এবং অবসরের অধিকারের বিষয়টি নিহিত ছিল। আজ ১৩৯ বছর পরে বিভিন্ন কৌশলে ৮ ঘন্টা কাজের শর্ত লঙ্ঘন করতে শ্রমিকের সম্মতি আদায় করা হচ্ছে। শ্রমিককে বাধ্য করা হচ্ছে অগ্রণযোগ্য কাজের শর্ত মেনে নিতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও দেশের শ্রমজীবী মানুষের ৮৫ শতাংশ শ্রম আইনের সুরক্ষার বাইরে। শ্রম সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে বাংলাদেশের শ্রম খাতের দুর্দশার যে ভয়ানক চিত্র ফুটে উঠেছে তা প্রমাণ করে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিটি সরকার শ্রম শোষণ কে তিব্র থেকে তিব্রতর করার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। সেই লক্ষ্যে শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা জাগানোর মে দিবসকেও ধর্ম কিংবা উৎসবের আয়োজনে আড়ালে করার চেষ্টা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ, গ্রেফতারকৃত সকলের মুক্তি, শ্রমিক নিপীড়ন বন্ধ এবং মে দিবসের প্রকৃত চেতনায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

