বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আগামী দিনে সরকারে গেলে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান বুঝে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের প্রশ্নে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও মাফিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার পরই বিবেচনা করা হবে গণ অধিকার পরিষদ কোন জোটে যাবে কি-না। শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত তরুণ্যের রাজনৈতিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মন্তব্য করেন।
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, কোন রাজনৈতিক দলই সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয় না। কারণ তারা ভোট কেন্দ্র দখল করতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষক করতে চায়। আগামী নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে সেই ফয়সালা হবে বলেও জানান তিনি।
নূর আরো বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই মাদকের ব্যবসা-বাণিজ্য চলে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়। শুধুমাত্র ব্যক্তি পাল্টায় দৃশ্যপট পাল্টায় না। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কল-কারখানা, শিল্প মালিকদের কাছ থেকে আগে শামীম ওসমানের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের লোকের চাঁদা নিতো। এখনো কেউ না কেউ চাঁদা নিচ্ছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস বন্ধে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট দরকার। কিন্তু কেউ সেটি চায় না। কারণ সবাই ভোটকেন্দ্র দখল করার জন্য, গুন্ডামি, মাস্তানি করার জন্য তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে চায়।”
নুরুল হক আরও বলেন, “ক্ষমতা জনগণের কাছে। কাজেই জনগণ যদি সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেই কেবলমাত্র পরিবর্তন সম্ভব। শুধুমাত্র টেলিভিশনে টকশো কিংবা রাজনীতির মাঠে বক্তব্য দিয়ে দেশ পরিবর্তন হবে না। মানুষকে পরিবর্তন হতে হবে।”
নুরুল হক বলেন, ৫ আগস্টের আগে যে স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা নিয়ে তরুণ জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছি তা গণঅভ্যুত্থানের পরের ১৫ মাসেও পূরণ হয়নি।
মাদক-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত আগামীর সমৃদ্ধশীল নারায়ণগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে তরুণ্যের রাজনৈতিক সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান যুব অধিকারের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি সাব্বির রাজ সহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী।

