বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
আগামী নির্বাচনে সরকারকে খালি মাঠে গোল দিতে রাজি নয় বিএনপি। যে কারণে দল গোছানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। দলের সাম্প্রতিক নানা কর্মকাণ্ড, শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য এবং তাদের সঙ্গে আলাপে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। এরই অংশ হিসেবে পূর্বঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’র রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি। শুধু তাই নয়, এই রূপরেখার আলোকে আগামী নির্বাচনী ইশতেহারও তৈরি হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে আলোর মুখ দেখতে পারে ক্ষমতায় গেলে বিএনপির কেমন করে দেশ চালাবে তার নতুন ফর্মূলা। ১০ মে সম্ভাব্য তারিখও ঠিক করা হয়েছে। গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রূপরেখা ঘোষণা করবেন।১০ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমা হলে একদিন পিছিয়ে দেয়া হতে পারে।
এদিকে দলের অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে,১১ মে বিকাল চারটায় সংবাদ সম্মেলন করবেন খালেদা জিয়া। সূত্রটি ভেন্যু হিসেবে ওয়েস্টিনের কথাই বলছে।
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপি সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবে এমনটা শোনা গেলেও ‘ভিশন ২০৩০’ এর সঙ্গে তা ঘোষণা না হওয়ার সম্ভাবনা আছে।তবে সবকিছু চূড়ান্ত করতে শিগগিরই স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকতে যাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে দুইটি বিষয় একসঙ্গে না আলাদা ঘোষণা দেয়া হবে।
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি এই মূহূর্তে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছি। তবে যতটুকু জানি এখন শুধু ভিশন ২০৩০ এর রূপরেখার ঘোষণা হবে। যদি সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হয় তা ঢাকায় ফিরলে বলা যাবে।’
জানা গেছে, দুই একদিনের মধ্যে ওই সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশিষ্টজন ও কূটনীতিকদের কাছে দাওয়াতপত্র পাঠানো হবে।রূপরেখায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র ঠিক রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার সংস্কার ও সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা; ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সুনীতি, সুশাসন ও সুসরকারের সমন্বয় ঘটানো; গণভোট ফিরিয়ে আনা; নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ সাংবিধানিক ও আধা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা; উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত আইন করা; ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে একটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার এবং প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে নেওয়ার জন্য বিএনপির পরিকল্পনায় বিস্তারিত থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন খাতওয়ারি পরিকল্পনাও থাকবে। দলটির নেতারা বলছেন, জনগণ ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে এই রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।রূপরেখা তৈরিতে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তারা হলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত নন, এমন একজন সাবেক অধ্যাপকের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’ শীর্ষক রূপরেখার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এটি নিয়ে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়।স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় তা চূড়ান্ত করা হবে।
জানা গেছে, বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী মাহবুব উল্লাহ ও সাবেক আমলা ইসমাঈল জবিউল্লাহসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিরা রূপরেখা তৈরির কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
