বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মহান স্বাধীনতার ৪৫ তম বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৫ ও ১৬ই ডিসেম্বর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কাশিপুর দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধে যে সকল শহীদরা তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নিজেদের জীবনে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে ঐ সকল শহীদদের সম্মানার্থে দৃষ্টি নন্দন বিজয় স্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। ১৫ই ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬.১ মিনিটে গণ সংগীত অনুষ্ঠিত হবে, ১৬ই ডিসেম্বর ১২.১ মিনিটে নব-নির্মিত বিজয় স্তম্ভের উদ্ভোধন ও ১২.১০ মিনিটে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান। এ ব্যাপারে কাশিপুরের কয়েকটি শহীদ পরিবারের সন্তানদের সাথে আলাপ করলে তারা প্রতিবেদককে জানায়, অগ্নিঝড়া মার্চের প্রথম সপ্তাহ আসলেই আমরা গণমাধ্যমে আমরা যখন দেখি ২৫শে মার্চ পাক হানাদার বাহিনী বর্বোরচিত, কাপুরোশচিত ভাবে নিরীহ শান্তিপ্রিয় বাংলার মানুষের বাড়িঘর রাতের অন্ধকারে অপারেশনের সার্চ লাইট নামে অগ্নি সংযোগ করে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে হাজার হাজার নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে এবং জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে রাতের আঁধারে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায় জাতীয়র জনক বঙ্গবন্ধু হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন পশ্চিমাদের এই নীল নক্সাটা। এজন্যই তিনি ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে বলেছিলেন আমি যদি হুকুম দিতে নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দিবো, বাংলার মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইন্শাল্লাহ্। তখন থেকেই বাংলার মুক্তিকামী দামালেরা মুক্তির জন্য পাগল হয়েছিল। তাদের একটিই চিন্তা ভাবনা যে কোন কিছুর মূল্যে আমরা দেশকে স্বাধীন করে ছাড়বো। তিনি আরো বলেন, হয়তে আমার বাবা আর আসবে না কখনো। বাবা মুক্তি যোদ্ধে শহীদ হওয়ার পরে পরিবার নিয়ে, আমাদেরকে নিয়ে আমার মা অনেক কষ্ট করে আমাদেরকে লালন-পালন করেছেন ও লেখাপড়া শিখিয়েছেন। হয়তো অনেক প্রাচুর্য্য দিতে দিতে পারেন নি। কিন্তু যখন পরিচয় হয় আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তখন বুকটা গর্ভে ভরে যায়। কথা যখন বলছিল তার অশ্রুসিক্ত নয়নে চোখ ভরে উঠে। তারপরেও তিনি ধন্যবাদ জানান, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এম. সাইফউল্লাহ বাদালকে বিজয় স্তম্ভটি নির্মান করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানায়। এ ব্যাপারে আল্হাজ্ব এম. সাইফউল্লাহ বাদল জানান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরাধীনতার শৃঙ্খলাথেকে ও পশ্চিমাদের গোলামীর জিঞ্জির থেকে বাঙ্গালী জাতীকে মুক্ত করার লক্ষে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠণ করার লক্ষ্যে মুক্তি যুদ্ধের ডাক দেন এবং বলেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আর এই স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষ নিজেদের বুকের তাজা রক্ত অকুতোভয় সৈনিকের হয়ে বীরের মতো নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে ও ২ লক্ষ মা-বোন নিজেদের সম্ভ্রম বিলিয়ে দিয়েছে। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতীর জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং সেই সাথে স্মরণ করছি সেই সব বীর শহীদদের। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ও জামাতের যারা ৭১-এর মহান মুক্তিযোদ্ধকে মেনে নিতে পারে নি, যারা এখনো বাংলাদেশে বসবাস করে বাংলাদেশের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তারা ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায়, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যারা ভুল ইতিহাস শিক্ষা দিতে না পারে সে জন্যই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস এবং পৃথিবীর বুকে যতদিন বাংলাদেশের মানচিত্রের নাম থাকবে ততদিন এই বীর শহীদদের জাতী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তিনি আরো জানান সকাল ৭ ঘটিকার সময় কাশিপুর গোয়ালবন্দ হতে একটি বিজয় র্যালী বের হবে আমরা কাশিপুর বাসী সংগঠনের পক্ষথেকে আমরা সমস্ত কাশিপুর প্রদক্ষিন পূর্বক রং-বেরং-এর ফেস্টুন, হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি সম্বলিত জাতীয় পতাকা সহ বাংলার ঐতিয্যময় ঢাক-ঢোল নিয়ে আমরা প্রদক্ষিণ করব এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ করেন।

