বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বিএনপির দুই গ্রুপের হামলায় আব্দুল কুদ্দুস হত্যার ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হান্নান সরকার সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে গাজীপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. হান্নান সরকার, তার দুই ছেলে জুনায়েদ ও ফারদিন এবং বাবু শিকদার।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, হান্নান সরকার সহ ৪ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে দুটি মামলায় সর্বমোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
এর আগে, গত শনিবার (২১ জুন) রাতে আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ ও সিরাজউদ্দৌলা এলাকায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে এক রাতে মেহেদী হাসান (৩৮) ও আবদুল কুদ্দুস (৬০) নামে দুজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত আব্দুল কুদ্দুস (৬০) বন্দরের হাফেজীবাগ এলাকার মৃত সাদেক আলীর ছেলে ও রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক। অপর নিহত মেহেদী হাসান শাহী মসজিদ এলাকার জলিল মুন্সির ছেলে ও বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বাবু-মেহেদী গ্রুপের সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, বন্দর রেললাইন অটোস্ট্যান্ড ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশার অনুসারী রনি-জাফর গ্রুপের সাথে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির নেতা হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু-মেহেদীর বিরোধ চলছিলো। এ নিয়ে গত শুক্রবার দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়। সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বাবু-মেহেদী গ্রুপের লোকজন রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক আব্দুল কুদ্দুস কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন রেললাইন সংলগ্ন এলাকার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বন্দর সিরাজ্উদ্দৌলা ক্লাব মাঠ দিয়ে মেহেদী যাওয়ার পথে তাকে গণপিটুনি দেয় ও ছুরিকাঘাতে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় দুটি পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুস (৬০) হত্যাকাণ্ডে তার মেয়ে রোকসানা বেগম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হান্নান সরকারসহ ১৩ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন।
অপর মেহেদী হাসান হত্যার ঘটনায় তার ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এখানে আসামিদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহীন মিয়ার নাম রয়েছে।

