বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একে এম শামীম ওসমান বলেছেন, যে ব্যক্তি নাহলে বাংলাদেশ হতো না। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যার গতিশীল নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। যে ব্যক্তি স্বাধীন বাংলাদেশ শাসন করেন মাত্র সাড়ে তিন বছর সে হল বাঙ্গালী জাতির জনক স্বাধীন বাংলার স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা বাঙ্গালীরা তাকে হত্যা করেছি। আমরা গর্ববোধ করি আমরা বাঙ্গালী কিন্তু কার জন্য আমরা গর্ববোধ করি। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চাননি তিনি চেয়েছিলেন বাংলার মানুষের মুক্তি আর আমরা সেই মহান ব্যক্তি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সহ পরিবারে হত্যা করেছি। এদেশে এখনো মোস্তাক মার্কা লোকেরা ঘুরে বেড়ায়। তাহলে আমরা কেমন বাঙ্গালী।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ বার ভবনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিছুর রহমান দিপু এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান এড. কাজী মো. নজিবুল্লাহ হিরু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. মো. আমিনুল হক, এড. আবদুল রশিদ ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. মো. আসাদুজজামান, সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক এড. মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য সচিব এড. মো. মাসুদ-উর রউফ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস জুয়েল, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ এর সভাপতি আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল, আড়াইহাজার উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এড. পারভীন আকতার কবিতা প্রমূখ।
তিনি আরও বলেন, আমি পুরোপুরি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি না রাজনীতি করি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। আওয়ামী লীগের যারা রাজনীতি করে শেখ হাসিনা তাদেরকে ভাল ভাবে চিনেন। শেখ হাসিনাকে মারার জন্য ১৯ বার চেষ্টা করছে সন্ত্রাসীরা। আমি মরে গেলে কিছুই হবে না কিন্তু জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকুক। তিনি মরে গেলে এদেশের কোটি কোটি মানুষের সোনার বাংলার স্বপ্ন ধূলিষাত হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা আমাকে বলেন শামীম তুই বোমা হামলার শিকার হয়েছিল এবং আমিও হয়েছি কিন্তু আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি দেশের মানুষের সেবা করার জন্য এবং তুইও মানুষের সেবা কর। আমি যত দিন বেঁচে আছি ততদিন নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আরও কিছু বড় দূর্ঘটনা ঘটনা ঘটবে এখনও জঙ্গীবাদ শেষ হয়ে যায়নি। তারা বুঝে গেছে তাদের দিন শেষ। তাই তারা এদেশে ধ্বংস করতে যেকোন সময় হামলা চালাবে। আমাদের সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।
আইভীর সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, আইভীর সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। আমি আইভীকে ছোট বোনের মত দেখি। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে বিএনপি ভোট কিনে মেয়র হন আইভী। তখন তিনি তৃণমূল আওয়ামী লীগের সাথে ছিল। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াত বিরোধী সমাবেশে তিনি এলে সেখানে জামাত বিরোধী মিছিল দিলে আইভী মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতেন এবং বলতেন যে জামাত বিরোধী শ্লোগান দেওয়া যাবে না। এমনকি আইভী প্রথম আলোর গোল টেবিল বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। সে কিভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। আইভী আমাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাল মন্দ করে যা খুশি তাই বলে। তা আমি কিছু মনে করি না। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সে সমালোচনা করে তা আমরা মেনে নিবো না। তৃনমূলের নেতৃবৃন্দ তাকে ছেড়ে কথা বলবে না। সে নারায়ণগঞ্জ শহরের কোন উন্নয়ন ঠিক মতো করে নাই। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে যানজট প্রতিনিয়ত ও রাস্তার পাশে ময়লার দূর্গন্ধে জন দুর্ভোগ হচ্ছে। কিন্তু সে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সে আসলে নারায়ণগঞ্জের মানুষ শান্তিতে থাকুক তা চায় না।
তিনি আরো বলেন, সুফিয়ানের মত এক জন লুইচ্চা ব্যক্তির সাথে মেয়র আইভী এক রিক্সায় কিভাবে চলাচল করে এবং সিটি কর্পোরেশনের ৮৫% সরকারি টেন্ডার পায় সুফিয়ান। আমার কাছে সিটি কর্পোরেশনের দূর্নীতির ৪/৫ শত লক্ষ টাকার দলিল সহ প্রমাণ আছে সময় মত তা দেখাবো। কেউ যদি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিরোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা কাউকে ছেড়ে দিবে না।

