বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
আজ ক্রিকেট ক্লাসিকো। যে ম্যাচের জন্য ক্রিকেট পিয়াসিরা প্রতীক্ষায় থাকেন বছরের পর বছর ধরে। হ্যাঁ, ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তানের লড়াইয়ের জন্য পুরো দুনিয়ার থাকে একটু ভিন্ন রোমাঞ্চ নিয়ে। সেই রোমাঞ্চে আরো উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে বলে। দীর্ঘ ১০ বছর আইসিসি’র ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি দুই দল। সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে কোহলির ভারত এগিয়ে থাকলেও, সরফরাজের আনপেডিক্টবল চমক দিলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না। কেনিংটন ওভালে দু’দলের ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে তিনটায়।
ভারতের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু। এরপর আনপ্রেডিক্টেবল তকমার যথার্থতা দিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতে ফাইনালে পাকিস্তান। আর ফেভারিটের মতো শুরু করে দাপটের সঙ্গেই ফাইনালে ভারত। এবার লড়াই স্বপ্নিল ট্রফির জন্য।
ফাইনাল বলেই দু’দলের ওপর থাকবে বাড়তি চাপ। শুধু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ না, দু’দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা এ দ্বৈরথে যোগ করে বাড়তি উন্মাদনা ও আগ্রাসন।
পাকিস্তানকে হারিয়ে শুরু ভারতের মাঝে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছন্দপতন হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের দাপুটে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে আরো।
ফাইনাল হওয়ায় আছে প্রত্যাশার চাপ। সেটা দ্বিগুণ হচ্ছে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই। তবে এমন মহারণের আগে প্রতিপক্ষকে প্রাপ্য মর্যাদাটা দিচ্ছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সেই সঙ্গে নিজের অধিনায়কত্বে আইসিসির এ বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালটাকে স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় তার কণ্ঠে।
কোহলি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচের সঙ্গে এ ম্যাচের কোন সম্পর্ক দেখি না আমি। অনেক দলই টুর্নামেন্টের শুরুটা দারুণ করলেও পরে হতাশ হয়েছে। আবার কিছু দলের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্পও আছে। নিজেদের দিনে পাকিস্তান খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি দল। আমার বিশ্বাস খুবই প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ একটি ফাইনাল হবে।’
এরআগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেললেও পাকিস্তানের তরুণ এ দলটি প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে। হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের আগে পাকিস্তানকে স্বস্তি দিচ্ছে ইনজুরি কাটিয়ে মোহাম্মাদ আমিরের দলে ফেরাটা। সর্বোচ্চ দশ উইকেট নিয়ে আস্থা হয়ে উঠেছেন আরেক পেসার হাসান আলি। এজবাস্টনের প্রশ্ন বার বার আসলেও কোচ মিকি আর্থারের আশা, ফাইনালে দেখা মিলবে ভিন্ন এক পাকিস্তানের।
‘প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়ে গেছি এটা আমি কখনোই বলবো না। আমরা বিশ্বাস নিয়ে এসেছি যে, ট্রফিটা আমরা জিততে পারি। এতদূর আমরা এসেছি, বাকি পথটাতেও সাফল্য পেতে চাই। আমরা প্রস্তুত। দারুণ একটি দলের বিপক্ষে জিততে খুব ভালো খেলতে হবে।’ বলছিলেন আর্থার।
কোহলি-সরফরাজের অধিনায়কত্বে আইসিসিরি কোন ইভেন্টে এই প্রথম ফাইনাল হলেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দু’জনেই অধিনায়ক হিসেবে সফল। ভিরাট কোহলি ২০০৮ এবং সরফরাজ আহমেদ ২০০৬ সালে দলকে জেতান বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের শিরোপা। এবার ওভাল কাকে বিজয়ী করে তাই এখন দেখার।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই এক সময় ছিলো আগুনে লড়াই। কিন্তু গেল ক’বছরে ভারতের আধিপত্যে সে উত্তাপ কমে গেছে অনেকটাই। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল বলেই তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। আর এতটুকু বলাই যায়, এ ম্যাচে মূলত লড়াইটা হবে ভারতের অভিজ্ঞতার সাথে পাকিস্তানের তারুণ্যের।
