বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে স্বার্থ এবং প্রভাবের রাজনীতি চলছে। দীর্ঘদীন ধরে দলের জন্য নিবেদিত প্রান এবং ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নের মাধ্যমে দলের প্রভাবশালীরা ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। এমনকি দলের নিবেদিত প্রান ও দলের দুঃ সময়ে যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালনে গুরুত্বপূণ ভূমিকা পালন করেছে তারা আজকে কষ্ট ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। দীর্ঘদীন ধরে মারাত্বক ব্যাধি রোধে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ওর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কষ্টে জীবন যাপন করলেও পাশে ছিল না দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তারপরেও দলকে ভালবাসার কমতি নেই তাদের মধ্যে। এখনো দলের জন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে দলীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সোনার বাংলা এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একে এম শামীম ওসমানের উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯১ সালে সরকারী তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে ফতুল্লার ভূইঘর এলাকার মোঃ সালাউদ্দিনের রাজনীতি শুরু। সাংসদ শামীম ওসমানের একজন কর্মী হিসেবে ছাত্রলীগের মাধ্যমে কুতুবপুরের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকে ২০০৪ সালে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে আশীন হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচী পালনে সর্বদাই সে মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমান সরকার বিরোধীদলে থাকাকালীন সময়ে একাধিকবার প্রতিপক্ষের হামলার স্বীকার হয়েছে। হামলা-মামলার স্বীকার হয়েও আওয়ামীলীগের কর্মসূচী সফলে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে মাঠ পর্যায়ে সর্বদাই তার নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মত। তবে বিধাতা তার আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদীন সক্রিয় থাকুক তা মনেহয় চায়নি। মরনব্যাধি দুরারোগ্য রোগ তার শরীরে বাসা বাধলে মারাত্বকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ কয়েকবছর যাবত বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে থাকলেও বিন্দুমাত্রও দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পায়নি। এমনকি দলীয় কোন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তাকে এক পলক দেখা কিংবা সহযোগিতার জন্য খোঁজখবর পর্যন্ত নেয়নি।
গতকাল রোববার দুপুর ৩টায় ফতুল্লার কুতুবপুর ভূইঘর এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসায় শয্যাশায়ী আওয়ামীলীগ নেতা সালাউদ্দিন ফতুল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের কাছে জানান, তিনি দীর্ঘদীন যাবত আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত। ১৯৯১ সালে বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানের কর্মী হিসেবে সরকারী তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু। এরপর থেকে সে আর রাজনীতি থেকে পিছপা পায়নি। দলীয় কর্মসূচী পালনে তিনি সর্বদাই সামনের সারিতেই ছিলেন। এমনকি বিএনপি জামাত জোট সরকার গঠনের পরেও তিনি দলীয় কর্মসূচী পালনে পিছপা হয়নি। ঐ সময়ে বিএনপি জামাত জোটের ক্যাডাররা তার উপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়েছে একাধিক। শত অত্যাচারের পরেও তিনি আওয়ামী রাজনীতির আর্দশ থেকে পিছপা হয়নি। ২০১০ সালে তার শরীরে মরনব্যাধি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও শয্যাশায়ী হয়ে এখনো সে বছানায় পড়ে আছেন। ঐ সময়তেই তার শরীরে ওপেন হার্ট সার্জারী করা হয়েছে। তারপরেও সে চেষ্টা করেন অসুস্থ শরীর নিয়ে দলীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করার জন্য। সে কান্নাজড়িত কন্ঠে রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের জানান, আমাকে আর্থিক সহযোগিতা করার দরকার নেই। তবে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আমাকে এক পলক দেখে যাবে এটা আমার প্রাপ্য’ অথচ এই প্রাপ্য টুকু থেকেও আমি বঞ্চিত। অথচ দলের সিনিয়র নেতারা সবাই আমাকে চিনেন এবং জানেন। তিনি আরো জানান, আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস যেন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করার মাধ্যমেই শেষ হউক এমনটাই মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে অনুরোধ।
এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসীম উদ্দীন জানান, কুতুবপুর ভূইঘর এলাকার সালাউদ্দিন ভাই দলের জন্য নিবেদিত প্রান। দলের ক্রান্তিকাল সময়ে তার কর্মসূচী ছিল চোঁখে পড়ার মত। তবে তিনি অসুস্থ এটা যানেন। তার শয্যাশায়ী পাশে অচিরেই আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে পাশে পাবেন বলে তিনি জানান।

