বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে আদালত প্রাঙ্গণে এক বিচারপ্রার্থীকে বেদম মারধর করেছে কয়েকজন আইনজীবী। হামলার শিকার ব্যবসায়ী ইরফান মিয়ার দাবি, হামলাকারীরা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁনের লোকজন। তবে এড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁনও দাবি করেন এগুলো মিথ্যাচার ষড়যন্ত্র।
বোরবার দুপুরে জেলা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
এসময় সেনেটারী ব্যবসায়ী ইরফান মিয়াকে (৪২) বাঁচাতে এসে তার পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হন।
নগরীর কালির বাজার এলাকার সেনেটারী ব্যবসায়ী ইরফান মিয়া জানান, ইসমাইল নামের এক ব্যক্তির কাছে তিনি ২৫ লাখ টাকা পান। টাকা আদায়ের জন্য তিনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। আজ বেলা ১১ টায় তিনি আদালতে ঢোকার সময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন তাকে জোর করে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেয়। এরপর তাকে এক মিনিটের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় সাখাওয়াত হোসেন। তিনি নির্দেশমতো আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ না করায় সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে তার কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবী ও আসামি পক্ষের লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। ১৫-২০ জন মিলে তাদেরকে প্রচন্ড মারধর করে। ফলে তিনিসহ তার পরিবারের মোট ৪ সদস্য গুরুতর আহত হন। তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে ( ৩৮) হামলাকারিরা চুলের মুঠি ধরে ঘুষি দেয় এবং পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। তার ৫ বছরের ছেলে আব্দুল্লাহকে মাটিতে ফেলে বেশ কয়েকটি লাথি দেয়। ফলে তার মেরুদন্ডের সমস্যা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলায় ইরফান মিয়ার বড় ছেলে জাতীয় বক্সার জিদানও (১৭) আহত হন। তিনি জানান, তারা ইচ্ছে করে আমার গোপনাঙ্গে লাথি মারতেই থাকে। মাথার পেছনে আঘাত করতে থাকে।
আহতরা সবাই নগরীর খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন জানান, ই ঘটনায় রাজনৈতিক কারণে, আমার ক্লিন ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমার প্রতিপক্ষ, যে জাতীয় নির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থী হবেন, তার ইন্ধনে এখানে আমাকে জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনার কোনো ভিডিওতে আমাকে দেখবেন না। যারা অভিযোগ করছেন তাদের সাথে আমার কখনো সাক্ষাৎ হয়নি, আজও না।”
এই ঘটনার সঙ্গে তাকে জড়ানোর পেছনে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজিত এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করেন সাখাওয়াত।
তিনি বলেন, “একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ধরণের বক্তব্য দিয়ে আমাকে জড়াতে চাচ্ছে। আসলে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা বিষয়। যাই ঘটেছে তা অন্য কারো সাথে ঘটেছে আমার সাথে কোনো কিছু না।”
তিনি আরো বলেন, ইরফান ও তার পরিবারের কাউকে আমি চিনি না। ঘটনার সময় আমি কোর্ট প্রাঙ্গণে ছিলাম না। বারের নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

