বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূইয়া পারভেজ গুমের রহস্য চার বছরেও উদঘাটন হয়নি। বর্তমানে সে কোথায় কোন অবস্থায় আছে, আজও বেঁচে আছে কিনা তার কোন প্রমানও এখনো পাওয়া যায়নি। পারভেজ গুমের অনেকদিন পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল সহ ৬জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। ওই মামলায় তারা কারাভোগও করেন। পারভেজ বেঁচে আছে নাকি অন্য কিছু সে প্রশ্নের উত্তরও মিলছে না।
পারভেজের স্ত্রী সোহানা তার ৯ বছরের শিশু সন্তান গল্পকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পারভেজকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী তুলেছেন। কিন্তু এখনো তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ৬বছরের জুলাই বিকেল ৪টায় ঢাকার গুলশান থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন অস্ত্রধারী পারভেজে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তার পরিবার। এর পর থেকেই পারভেজ নিখোঁজ রয়েছে।
পারভেজের স্ত্রী সোহানা বেগম ঘটনার পর জানিয়েছিলেন, ৬ জুলাই তিনি পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে আসছিলেন। গুলশানের ২নং সেক্টরে গাড়িটি আসা মাত্র একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে আসা ১০-১২ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি গাড়িটি গতিরোধ করে। তখন ব্যক্তিরা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারভেজকে তার গাড়ি থেকে নামিয়ে ওই মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এর পর থেকেই পারভেজ নিখোঁজ রয়েছে।
আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকান্ডের ঘটনায় দেওয়া খুনীদের অবগতি পত্রে পারভেজ এর নাম ছিল। পারভেজ গুম হওয়ার পর ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পারভেজের স্ত্রী খুরশীদ জাহান সোহানা বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়সিটি করপোরেশনের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আবু সুফিয়ানকে। মামলার অন্য আসামীরা হলো – নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী রেজা উজ্জ্বল, আইভীর মামাতো ভাই চিত্র শিল্পী রেজাউল ইসলাম রনি, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল কাদিরের ছেলে মিনহাজুল কাদির ওরফে মিমন, জেলা কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে কারমেল, বিএনপি নেতা মাহবুব উল্লাহ তপন, নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম ওরফে শকু।
গত বছরের (২০১৪) ২৭ জানুয়ারী ঢাকা ডিবি পুলিশ নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট এলাকা থেকে সুফিয়ান, তার দুইজন সহযোগি কমল ও সাখাওয়াতকে আটক করার পর তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল, আইভীর মামাতো ভাই চিত্র শিল্পী রেজাউল ইসলাম রনি, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল কাদিরের ছেলে মিনহাজুল কাদির ওরফে মিমন, জেলা কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে কারমেল ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে আদালতে প্রেরণ করে। দীর্ঘ প্রায় এক মাস কারাভোগের পর তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন।
