বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটের ছোট ছোট শরিক দলের নেতারা চাচ্ছেন, যে করেই হোক সামনের ভোটে নৌকায় চড়ে কিংবা ধানের শীষ হাতে নিয়ে নির্বাচনে লড়তে। এই চাওয়ার পেছনের কারণটি হলো, এই দুই প্রতীকে লড়লে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যায়। কিন্তু নিজেদের প্রতীকে লড়লে জেতা তো দূরের কথা, জামানত হারানোরও ভয় আছে। এ অবস্থায় নিজ দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে অন্তত একটিতে হলেও তারা নামকাওয়াস্তে প্রার্থী করার কথা ভাবছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তারা নৌকা ও ধানের শীষ পাবেন কিনা তা নিয়ে নিজেরাই শঙ্কিত। জানা গেছে, দুটি জোটের শরিকদেরই কর্মী ও সমর্থকের অভাব রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শরীকদলগুলোর কার্য্যালয়তো পাওয়া দূরের কথা দলগুলোর দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদেরকেও ঠিকমত চিনেন না শরীকদলগুলোর প্রধান আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। তার ওপর রয়েছে জনসমর্থন ও ভোটার সংকট। ইসির নিবন্ধিত হওয়া সত্ত্বেও এসব দলের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী প্রতীকই ভরসা। দুর্বল হলেও সুযোগ সন্ধানী শরীকদলগুলোর নেতৃবৃন্দরা এখন নির্বাচনী আসন নিয়ে দর কষাকষিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বিগত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিকে দুটি আসর ছাড় দেন। আর আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টি লাঙ্গল ছাড়া অন্য সবাই নৌকাতেই মনোনয়ন নিতে চান। কারণ নৌকা ছাড়া তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয় বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষেধাজ্ঞার পথে। আদালতে ঝুলছে তাদের এই নিষেধাজ্ঞা মামলা। ফলে এতদিন নিজস্ব প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় নির্বাচন করে এলেও এবার তাদের প্রার্থীদেরও নির্বাচন করতে হলে ধানের শীষ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। তবে অন্য অনেক শরিক দলের চেয়ে মহাজোটের জাতীয় পার্টি আর ২০-দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত ও কাঠামো শক্তিশালী এবং জনসমর্থন তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যেই আসন নিয়ে দর কষাকষি শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় চড়ে এমপি হয়েছেন জোটের দুই জন। মহাজোটের শরীকদলের সাংসদ হলেন সদর ও বন্দর আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা।
জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে সবাইকে নিয়েই অংশ নিতে চায় বিএনপি। জোটের পরিধি বৃদ্ধিসহ ব্যাপক ভিত্তিতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চায় দলটি। বিগত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন চারদলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন দল বিএনপি ৪০টি আসনে ছাড় দিয়েছিল শরিক দলগুলোকে। এরমধ্যে ৩৩টি আসনে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেয়। সেসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা বলেন, আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ দল বলা যাবে না। তবে শেষ পর্যন্ত অবস্থা বুঝেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সিনিয়র এক নেতা বলেন, ইতিমধ্যেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে পাঁচটি আসন নৌকা প্রতীকে প্রার্থীতা করার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই নৌকা প্রতীকে প্রার্থীতা করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার জানান, ছোটদল হিসেবে শরীকদলগুলো বিএনপি থেকে একটু সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে এ বিষয়টা ভিন্ন। কেননা, পূর্বের চেয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি অনেকটাই শক্তিশালী। তাই বিএনপি নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ধানের শীষ সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন করবে এজন্য কেন্দ্রে অনুরোধ করা হবে।
