আন্তর্জাতিকডেস্ক,বিজয় বার্তা ২৪
কলকাতার স্বামী বিবেকানন্দ ফ্লাইওভার ধসের ২৪ ঘণ্টা পর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আইভিআরসিএলের পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা বলছেন, বোমা বিস্ফোরণের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আইভিআরসিএলের লিগ্যাল অ্যাডভাইজর শীলা পেদিন্তি ‘বোমাতত্ত্ব’ হাজির করেছেন।
এই আইনজীবী বলেছেন, ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার সময় আশপাশের ভবনগুলোর কাচ চুরমার হয়ে গেছে। ‘বিস্ফোরণের কারণেও’ এটা হতে পারে- এই যুক্তি দেখিয়ে তিনি তদন্ত দাবি করেছেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
শীলা পেদিন্তি বলেন, শহরটির ব্যস্ততম এলাকায় এ ধসের কারণ হিসেবে বোমা বিস্ফোরণকেও খতিয়ে দেখতে হবে। একে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
এর আগে অভিযুক্ত এ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি এ দুর্ঘটনাকে ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা’ বলায় তীব্র সমালোচনায় পড়ে। খবর কলকাতা টুয়েন্টি ফোর ইনটু সেভেনের।
দুর্ঘটনার পেছনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে মেটিরিয়ালের প্রশ্ন৷ আইভিআরসিএল কর্তৃপক্ষের দাবি, গোটা ফ্লাইওভারে একই উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল৷ একই স্ল্যাব ব্যবহার করা হয়েছিল৷ নির্মাণ সামগ্রী ছিল আইএসআই স্বীকৃত৷ প্রমাণ ছাড়া তাদের দায়ী করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের৷
ঘটনার তদন্তে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি কলকাতায় বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে৷ তদন্তে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন আইভিআরসিএল কর্তৃপক্ষ৷
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে পোস্তায় উড়ালপুল দুর্ঘটনায় নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে আইভিআরসিএল কর্তৃপক্ষ৷ তারা সাংবাদিকের বলেন, দুর্ঘটনার কারণ তাদেরও জানা নেই৷ এটা নিছকই একটি দুর্ঘটনা৷ নকশা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছিল৷ তা সত্ত্বেও কীভাবে এ বিপর্যয় ঘটল বা কীভাবে ভেঙে পড়ল, তা তাদেরও জানা নেই৷
এদিকে গিরিশ পার্কের কাছে যে রাস্তায় বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারের ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যেরওই অংশ ধসে পড়েছে, সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে।
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) সুরজিত সিং গুলেরিয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ভেঙে পড়া অংশের নিচ থেকে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা কম। দুটি রাস্তার সংযোগস্থলে জমে থাকা কংক্রিটের স্তূপ আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া যাবে। তবে যে অংশে পিলার থেকে বিপজ্জনকভাবে গার্ডার ঝুলছে, ওই অংশ সরাতে সময় লাগবে।
আইভিআরসিএল ২০০৯ সালে দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু করলেও গত সাত বছরে শেষ হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় রেলের কালো তালিকাভুক্ত ‘আইভিআরসিএল’ হায়দরাবাদ ও উত্তরপ্রদেশেও শ্রমিক নিরাপত্তার ও কাজের মানের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়ে। কার্যত দেউলিয়া হতে বসা ওই কোম্পানি গত বছরের শেষ ছয় মাস প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল।
শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ‘অবহেলাজনিত নরহত্যার’ অভিযোগে একটি মামলা করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। কলকাতায় আইভিআরসিএল- এর পাঁচ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের জন্য কলকাতার পুলিশ হায়দরাবাদে রওনা হয়েছে বলে এনডিটিভির খবর।