স্টাফ রিপোর্টার,বিজয় বার্তা ২৪
নির্বাচন কমিশনকে সরকারের খাঁচাবন্দী পাখি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল থেকে দেশের ৯টি পৌরসভায় চলমান নির্বাচনে সহিংসতা ও কারচুপির চিত্র তুলে ধরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, ভোট চুরি, ভোট ডাকাতির এতো সব মহাযজ্ঞের পরেও গণতান্ত্রিক সৌজনের তোয়াক্কা না করে আজকেও হয়তো নির্বাচন কমিশন বলবে আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আজকের নির্বাচন আরও সুষ্ঠু হয়েছে। তার যেন কিছুই করার নেই, শুধু সরকারের নির্দেশ মান্য করা ছাড়া।
তিনি বলেন, কমিশন শুধু সরকারের সমস্ত উস্কানি, প্ররোচণা, অসভ্যতা, রক্তারক্তি, খুনোখুনি, প্রাণহানি, জখম করে পঙ্গু করার ঘটনাগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের স্নায়ু শিথিল হয়ে গেছে, মস্তিস্ক অলস হয়ে গেছে, হৃদয় দুর্বল হয়ে গেছে। এই লক্ষ্যভ্রষ্ট নির্বাচন কমিশন যেন এদেশের লাশে পরিণত হওয়া নির্বাচনী ব্যবস্থা সাক্ষাৎ হাড়হিম করা প্রেত্মাতা।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের নীতিই হলো দুর্নীতি, আর ঐতিহ্য হলো সহিংস সন্ত্রাস, এদের আরেকটি ঐতিহ্য হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের নিকট এরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পারঙ্গম। সাংবিধানিক সকল বিধি বিধান তাদের নিকট গৌন, মুখ্য হলো সন্ত্রাস ও রক্তপাত এবং প্রাণহানি আর এধরণের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে তারা মানুষের সব বৃত্তিকে গ্রাস করে নিতে চায়।
তিনি আরো বলেন, দেশের সকল বিরোধী দলগুলোর সভা সমাবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণারোপের মধ্য দিয়ে কোণঠাসা করে রাখা এবং গণমাধ্যম এর ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সাংবাদিকতার স্বাধীন সত্তাকে ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে এজন্যই যে, এরা সন্ত্রাসী পরিকাঠামো নির্মান করে জনগণের ভোটাধিকারকে আটকিয়ে রাখা। এদের দুঃশাসনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মানবাত্মার অবমাননার বিভিন্ন দিক।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারী বিনা ভোটের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সিংহাসন দখলের পর তারা আরো বেশী মাত্রায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর সেজন্যই আমরা দেখতে পাচ্ছি একের পর এক স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এক পৈশাচিক রক্তের হোলিখেলা। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে শুধু রাত বিরেতে নয়, বরং দিনে দুপুরে সাধারণ ভোটারদের চলতে ফিরতে গা ছমছম করে। রক্তচোষা আওয়ামী সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির কড়াইশুদ্ধ খেয়ে ফেলে এখন জনগণের হাড়গোড় চিবিয়ে খাচ্ছে।
রিজভী বলেন, সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশে দেশে নির্মম একদলীয় সরকার তৃণমূল পর্যন্ত তাদের কমান্ড নিশ্চিত করার জন্যই দলীয় লোকদের দিয়ে স্থানীয় সরকার গঠন করে। আর এ ব্যবস্থায় বিরোধী সংগঠন, ভিন্ন মতাদর্শ, সরকারের সমালোচনা একেবারেই উচ্ছেদ করে দেয়া হয়।
অভিযোগ করে রিজভী বলেন, নোয়াখালী সদর , কসবা, ছাগলনাইয়া পৌরসভা নির্বাচনে ভোট শুরু হওয়ার প–র্বেই আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। ভোট কেন্দ্রের বাইরে স্থানীয় ও বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়ে কেন্দ্র ঘেরাও করে রেখেছে। এবিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটদের বিষয়টি বারংবার অবহিত করার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন উর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।