বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ। এই জেলায় লাখ লাখ মানুষের বসবাস। ব্যবসা-বানিজ্যের জেলা হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ এই জেলায় যাতায়াত করে। সড়ক পথ, রেল পথ ও নদীপথে মালামাল ক্রয় করতে পাইকাররা আসে এই জেলায়। নদীপথে যাতায়াত সুবিধা ভাল হওয়ায় হাজারো যাত্রী চলাচল করে এই পথে। ঐতিয্যবাহী নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ সহ দূরপাল্লার অনেক লঞ্চ এই টার্মিনাল ঘাটে প্রতিদিন চলাচল করে। যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘœ করতে এই ঘাটে রয়েছে বিশেষ সুবিধা। আর সেই সুবিধা দিতে কাজ করছে সরকারী কর্মকর্তা ও লঞ্চ মালিকরা ছাড়াও যুগের পর যুগ কাজ করছে দিনমজুর কুলিরা। যাত্রীদের ভারি ভারি মালমাল আনা নেওয়া করতে দিনরাত কাজ করে এই কুলিরা। তাদের লাগেজ-ব্যাগ, বস্তা ও মালামাল এমনকি ভারি ফার্নিচারও কুলিরা লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়। এই সব মাল বহন করে যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা পায় তা দিয়ে চলে কুলিদের সংসার। কোন মতে ছেলে মেয়ে নিয়ে দুবেলা দুমঠো খেয়ে বেঁচে থাকে তারা। অনেক সময় বারতি টাকা চাওয়ায় যাত্রীদের কাছে তিরস্কারও পেতে হয় কুলিদের। এ নিয়ে অভিযোগেরও শেষ নেই তাদের বিরুদ্ধে। বিগত সময়ে ইজারদের আমলে কিছুটা বারতি টাকা নিলেও নতুন ইজারদারদের দায়িত্বে তেমন কোন সুযোগ নেই বলে জানান কুলিরা। আমরা নতুন ইজারাদারদের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়ে যাত্রীদের সেবায় কাজ করছি।
এ নিয়ে কুলিদের সর্দার লতিফ, মোহন, বিল্লাল, মফিজুল ও রিপনের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমরা অনেকদিন যাবৎ এই ঘাটে মালামাল বহনের কাজ করছি। ইজারাদারদের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়ে আমরা এই কাজ পরিচালনা করছি। এখানে সব সময় বানিজ্যিক পন্য থাকে না। বিশেষ করে সকাল দিকে। যাত্রীরা লঞ্চ থেকে সবাই না নামা পর্যন্ত ডেক থেকে পন্য নামানোর সুযোগ থাকে না। এইসময় টা আমরা যাত্রীদের লাগেজ-ব্যাগ বহন করি। তবে তারা যদি আমাদের অনুমতি দেয় তাহলেই বহন করি।
যাত্রীদের জোর করা ও বারতি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে তারা বলেন, জোর করার অভিযোগটি সত্য নয় জোর করার প্রশ্নই আসে না। তারা আমাদের অনুমতি দিলেই মালামাল বহন করি। আগে কিছুটা বারতি আদায় করা হতে পারে কিন্তু এখন নতুন ইজারাদার আসার পর থেকে তেমন কোন সুযোগ নেই। আর যদি কোন কুলি এমন করে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিবো। আমরা মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল কলেজের মালমালের জন্য টাকা নেই না। এমনকি অসহায় গরীব মানুষকে অনেক সময় টাকা ছাড়া মালামাল বহন করি। এখান থেকে আমরা যে অর্থ আয় করি সেটা দিয়ে কোন মতে আমাদের সংসার চালাই।
লঞ্চ ঘাটে আশরাফ নামে এক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, যাত্রীদের মালামাল আনা নেওয়ার সময় কুলিদের সাথে তর্ক বিতর্ক বাদে এটা সত্যি। কিন্তু যাত্রীরাও অনেক সময় তাদেরকে গালাগাল করে। মালামালের বহনের জন্য বারতি টাকা কুলিরা চাইলে আমি নিজেও সব সময় দেই না।
ঘাট কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপকালে তারা জানান, বিগত সময়ের থেকে এখন এই নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। ঘাটে কোন কোন সময় দু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। এ ব্যাপারে সুর্নিদিষ্ঠ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এখানে অনিয়মে কোন সুযোগ নেই।

